নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল (পর্ব – ১)

কাল্পনিক কৌতুক নাটক – “ভেক করোনা “

চরিএ-১)বামুন-বৃদ্ধ ব্রাম্ভন,পৈতার বাহার কান্ধে।স্বভাব – ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রোজগার করা।

২)বাউন্ডুলে -ভবঘুরে ,লবন জল বোতলে করে গোলায় ঝোলানো।
৩)ডাক্তার -চিকিৎসার প্রতিক হিসাবে কাজ খরবে
৪)চাষী -ফসল ফলানো কাজ।
৫) মাতাল-মদ ছাড়া অচল।
৬)যীরাহিম-সব ধর্মের মিশ্রিত রুপের এক জনৈক ব্যাক্তি।যীশু রাম রহিম। নিচে লুঙ্গি,উপরে নামাবলি,হাতে মালা,ঈশ্বর কে প্রার্থনা করলে খ্রীষ্টান দের মতো করে করবে।

৭) দেশমাতৃকা-এখানে প্রকৃতির রূপ।

ভেক করোনা

১ম দৃশ্য

মাঠের আলের রাস্তা

(চাষীর প্রবেশ।হাতে কোদাল।মাঠের আল দিতে থাকে।কিছু পরে বামুনের প্রবেশ।)
বামুন। জয় করোনার জয় । লে বাবা! করোনা মেয়ে জাতির না পুরুষ জাতির বটে !না ওটো কাউকে বলা চলবে না।শুধু জয় জয়াকার করে কাটাই দিতে হবে।তবে তো মানুষ গুলো, মানে আমার জজমান গুলো ভয় পাবে।হে-হে-হে হিচিক–

চাষী। ফিচিক !ভয় পাব কি ঠাকুর মশাই।ভয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছে গো।এ লকডাউন করে করে মানুষ গুলো কে বাতা ফাড়া করে দিচ্ছে মাইরি।বলি করোনা কি ঠাকুর বটে গো পুরুত মশাই?

বামুন। ঠাকুর মানে ঠাকুর জাগরন্ত ঠাকুর বটে বাপ। বলছি এ মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছিস, প্রতি মঙ্গল বারে একটা করে পুজো দে বাপ । করোনার পুজো।দিয়ে সব ফিটিং করে লে।

চাষী। মিটিং করে ফিটিং করতে হবে পুরুত মশাই।আগে তো জানতে হবে করোনা কি ঠাকুর বটে। ও ঠাকুর মশাই একটা কথা বলি, মানে জিজ্ঞাসা করার ছিল।

বামুন। কর কেন্নে বাপ । আমি তুদের বামুন বটি মানে পন্ডিত বটি।বল বল কি বলবি তাড়াতাড়ি বল বাপ।

চাষী।খাপে খাপ । বলছি মানে ঐ পুজো ত দিব করোনার, কিন্তু—-

বামুন। হতভাগা কিন্তু কিরে।ঐ কিন্তু, কিন্তু করে কোন ঠাকুরের পুজো দিতে নাই বুঝলি।

চাষী । খুঁজলাম ,না মানে ঐ ঐ মানে–

বামুন। বলে ফেল বাপ বলে ফেল। আমার সময় কম তাড়াতাড়ি বল কি বলছিস।

চাষী। বলছি যে করোনা কি ঠাকুর বটে,? দেব না দেবী বটে?(বামুন চমকে উঠে)

বামুন। (মনে মনে)লে বাবা যেখানে বাঘের ভয় , সেখানে সন্ধ্যা হয়।যা ভাবছিলাম তাই হল।(গোলা ঝেড়ে)দুর বোকা ঠাকুরের নামে এমন কেউ প্রশ্ন করে।ও সব বাদ দে না হলে পাপ লাগবে বাপ।(মনে মনে,)আমি কি আর লেজ তুলে দেখিছি এড়ে না বকনা, বলে ভয়ে মাস্ক পরে হাতে বার বার ক্যাপটান লাগাচ্ছি না মানে সেনিটাইজার ।

চাষী। ঠাকুর ও ঠাকুর মশাই।কি ভাবছেন।বলি দেব বটে না দেবী বটে জানলেও পাপ লাগবে তবে ছেড়ে দেন জানার দরকার নাই।

(সহসা লঙ্গি, নামাবলী গায়ে যীরাহিম এসে বলে)

যীরাহিম । দরকার আছে জানতে হয়,না জানলে ঠকতে হয়।

বামুন। কে কন ,কে কন( পিছন ফিরে দেখে) বলি করোনা নাকিরে! (দুরে সরে যা‌য়)

যীরাহিম। না আমি হিন্দুর রাম, খ্রীষ্টানের যীশু, মুসলিমদের রহিম,আমি যীরাহিম।তাই পরনে লুঙ্গি,হাতে মালা,গায়ে নামাবলী।আমি সব ধর্মের মানুষ কে বলি জাগো উঠো,সতর্ক হও কেউ হয়োনা দ্বেষ, বিদ্বেষের বলি।আমি শান্তির জন্যে উড়ায় পায়রা।

বামুন। এ হে হে হে পায়রা উড়ায়।মানে এ তো পাখিমারা মানে যাযাবর। হাঃ-হাঃ-হাঃ-

যীরাহিম। যাযাবর আমরা তো সবাই যা-যা-বর পন্ডিত মশাই।এই পৃথিবীর সবাই যাযাবর।কেউ থাকতে আসিনি সবাই ঘুরতে এসেছি ঘুরতে।

চাষী। মরতে ! ঠিক ই তো বলেছেন । কিন্তু আপনি এখানে কেন এসেছেন কি কাজ আপনার এখানে।আপনি তো ভিনদেশী। এ মহামারী করোনা কালে কেন এসেছেন?

যীরাহিম। এসেছি বলতে,জানাতে,জাগাতে।উঠো জাগো।

বামুন। ভাগো এখান থেকে যাও এ্যা।কে আমার গুরু ঠাকুর রে জাগাতে এসেছেন। একজন মুসলিম হয়ে নামাবলী গায়ে দিতে লজ্জা করেনা।

যীরাহিম । লজ্জা! কিসের,লজ্জা!তো এক আভরণ ।লজ্জা লাগুক খারাপ কাজে। লজ্জায় হোক সবার ভূষণ।

চাষী । দূষণ। হ্যা দাদা বাবু আপনি ঠিক বলছেন।

বামুন। কি ঠিক বলছে রে ।কিছু ঠিক বলেনি ।একজন বিধর্মী মানুষ তার কোন জাতের ঠিক নাই ।

যীরাহিম। জাত, আমার জাত তো একটা আছে।আমি হলাম মানুষ জাতি।বাকি যাত পাত তো আপনাদের মতো লোভি মানুষের স্বার্থে বানানো মানুষে মানুষে বিভাজন।

বামুন। এই এই মুখ সামলে কথা বলিস।আমি লোভি,তুই লোভি তুর চৌদ্দ গুষ্টি লোভি।জানিস আমি ব্রাম্ভন বটি এমন সার্প দিবনা আর নড়তে চড়তে পারবিনি বুঝলি।দিব——(পইতে বের করে)

চাষী। (হন্তদন্ত হয়ে)না ঠাকুর মশাই সার্প দেবেন না!

বামুন। তবে আমাকে ধর না হলে আজ দিয়েই দিব সার্প হ।কইরে ভুষণ ধর ধর আমাকে ধর।(নিজেই চাষীকে ধরবে)

চাষী। ছাড়ুন, ছাড়ুন ঠাকুর মশাই আমাকে ছাড়ুন।আমি তো কিছুই করিনি আমাকে ছেড়ে দেন ঠাকুর।

(যীরাহিম হাসতে থাকে)
যীরাহিম। হাঃ-হাঃ-হাঃ—-

বামুন। এ্যা হাসছে দেখ ।যেন আমি মজা করে সার্কাস দেখাচ্ছি।বুঝবি যখন করোনা বান্ধবেক তখন বুঝবি কোন ব্রাম্ভনের কত ত্যাজ ।আমি হলেম গিয়ে বামুন ঠাকুর মানে এমন মন্ত্র বলি দেব দেবীও সব কথা শুনে।তুর ভাগ্য ভালো আমার কাজ আছে তাই চলে যেতে হবে।আসিরে ভূষণ মাকস টা ভাল করে বান্ধে লে দেখিস তুই আবার করোনা বান্ধাস নে যেন।চলি বাপ।(চলে যায়)

চাষী। বলি মাকস বান্ধে কি হবে।থাকতে পারিনে । কোনদিন ও সব পরিনি ।

যীরাহিম। পরেননি এখন পরুন। সকলকে মাস্ক পরতে হবে।যেখানে দেখিবেন ভিড়,মাক্স করুন বাহির।ঐ খানেই থাকতে পারে করোনার রুগী।
চলি চাষী ভাই ।সাবধানে থাকুন।আপনার হাতে ফলুক প্রকৃতির সোনার ফসল।যে ফসল খেয়ে আপামর জনতা বাঁচে। তবেই তো বাঁচবে এ ধরনীর অস্তিত্ব।তা না হলে যে সব সৃষ্টি ব্যর্থ হয়ে যাবে। আসুন সবাই মিলে বলি জয় চাষী ভাই এর জয়।জয় সৃষ্টি কর্তার জয়। সেই রাম ,রহিম,আর যীশু কে একত্রিত করে বলুন হে ঈশ্বর আপনি পথ জানেন পথ দেখান ।(সকল ধর্মের ভঙ্গিমায় প্রার্থনা করে)

চাষী । কিন্তু আপনি কে মশাই?

যীরাহিম। আমি কে জানেন ।আমার রামের ঘরে জন্ম। রহিমের ঘরে পালিত আর যীশুর ঘরে আমার বর্তমান ঠিকানা।তাই তো আমার নাম যীরাহিম।পরনে লুঙ্গি,হাতে মালা,গায়ে নামাবলী।আমি সব ধর্মকেই মেনে চলি।

চাষী। কিন্তু–

যীরাহিম। কোন কিন্তু নয়।ধর্ম বিভাজন হলেও ঈশ্বর এক এবং অভিন্ন।গীতা, বাইবেল,কোরান শুধু মানুষের কথা বলে। মানুষ ই শেষ কথা । মানুষ না বাঁচলে সব বৃথা।আসি বন্ধু আবার দেখা হবে।আসি—-(চলে যায়)

চাষী। বাসি কথা মানুষ, হ্যা, মানুষ ই সব করে। ভগবান তো বলেনা মারপিট কর,দাঙ্গা কর।যা করে সব মানুষেই করে।আর মানুষ কে বাঁচাতে হলে চাই খাবার ।বাঁচাতেই হবে মানুষ কে বাঁচাতে হবে।আমি তো একজন চাষী ।আমি ফসল ফলিয়ে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে মানুষের সেবা করব সেবা।
( ফ্রিজ,আলো নিভে)
……………….

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।