নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল – ৩

কৌতুক নাটক-“কৈলাসে পদ বদল”

২য় দৃশ্য
কৈলাসে লক্ষীর গৃহ

(লক্ষী বলতে বলতে আসে)

লক্ষী।যুদ্ধ চাই যুদ্ধ। চারিদিকে যুদ্ধ লাগাতে হবে তা না হলে আমার অস্তিত্ব কেউ টের পাবে কেমন করে।যুদ্ধ লাগানো বা দমন করা সব আমার হাতে রাখতে হবে।
(গনেশের প্রবেশ)
গনেশ।রাখবি তো রাখ কিন্তু দেখিস খাবার জন্য যেন
আমাকে কোন রিলিফ দিতে বলবি না হুম।

লক্ষী।কেন রে খাদ্য দপ্তর চালাতে যদি এতই অসুবিধা হচ্ছে তবে পদত্যাগ করে দে।আমি তো ভাই কতদিন ধরে খাদ্য দপ্তর চালিয়ে এসেছি কেউ ভুল করে বলতে পারে কোনদিন কোন অসুবিধা হয়েছে!

গনেশ।এত দিন হয়নি, তখন তো সবাই চাষে জোর দিত।মাঠে ঘাটে আনন্দে চাষ করে খাবার মানুষ জোগাড় করে রাখত।আর এখন কেউ চাষ করতে চায় না। সবাই ভাবে কিনব আর খাবো।খাবো আর ….!যা আর বলা যাবে না।

লক্ষী।কেনরে কি বলবি বলে ফেল গনেশ।তবে দেখ কেমন লাগে।গদিতে বসে সব ম্যানেজ করে চালানোর কত হ্যাপা।বাকি সব তো বলে দিয়েই খালাস।এই চাই, ওই দাও।শোন তবে খাদ্যাভাব হয়ে থাকলে তার উপায় আমার জানা আছে কোন চিন্তা করিস নে । ঠিক সময়ে ঠিক ঠাক সল্যুয়েশন আমি বলে দিব রে । আমি থাকতে খাবার নিয়ে ভাবিস নে রে।

(দুর্গার প্রবেশ)

দুর্গা।ভাবতে তো হবেই।কারন পেটে যখন খিদে তখন ভাবতে তো হবেই।লে গনেশ চাল দে ।হাড়ির জল গরম হয়ে গেছে ইবারে চাল ছাড়তে হবে।

গনেশ।চাল!চাল তো নাইগো মা।সব চাল ও কন্টোলে দিয়ে শেষ হয়ে গেছে।ঐ যে “দুয়ারে রেশন,” প্রকল্প চলছে মর্তে।ঐ খানেই তো যত চাল জমা করে নিচ্ছে গো ।

লক্ষী।ও তা আগে বলবি তো তাহলে বুদ্ধিটা দিয়েই দিতাম।

দূর্গা।হা রে লখু তুই আবার কবে থেকে বুদ্ধিজীবি হলি মা।তা যখন তোর এত বুদ্ধি হয়েছে তা বলনা গনশাকে কি করলে কি হবে।না হলে যে না খেয়ে সব মরবো রে।আর একবার ভাব কৈলাসে অন্নাভাব হয়েছে এ কথাটা যদি মর্তে এক কানে যায় তাহলে পাঁচ কান হতে হতে কতগুলো যে কানে হবে তার কূলকিনারা পাবিনে হ।

গনেশে।হ মা ঠিক কথায় বলেছে রে। মর্তে রে তো সবেতেই বাড়াবাড়ি।একটা তিল খবরকে তাল করে মানুষ কে পরিবেশন করে ছাড়বে।তাই বলি কি তোর মাথায় কি বুদ্ধি খুলেছে ঝেড়ে ঝুড়ে বলে ফেল।

লক্ষী।বলবো রে বলবো তুমি ও শুনো মা মর্তে দেখলাম এখন নাকি প্লাস্টিকের চাল বেরোয় ছে।তা সে গুলো কে এখানে প্রোডাকসান করতে হবে।বিশ্বকর্মাকে বলে একটা প্লাস্টিকের রাইস মিল বানাতে হবে।

দূর্গা।এ মলো যা। প্লাস্টিকের চাল!বাবা গো বাবা মরে যাই মরে যাই।কালে কালে কি যে দেখতে হবে কে জানে।বলি হা গো মা লখু।তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে ।মর্তের ঐ প্লাস্টিকের চাল আমরা হজম করতে পারবো!শেষে বদহজম হয়ে যাবেনা তো।

গনেশ।না না বদ হজম কেন হবে মা।ধরো আমাদের যে পূজো আসে।কত ফল মিষ্টান্ন খায় সে গুলো তো ঠিক হজম হয়ে যায়।

লক্ষী।হ মা গনেশ তো ঠিক কথায় বলেছে। হজমের অসুবিধা হবেনা নিশ্চয়।

দূর্গা।তাই বলে প্লাস্টিক চাল।না,না মানা যায়নারে। ভেজালের জালে মানুষ যা খুশি শুরু করছে।কোন মানবিকতা নেই মানুষের মধ্যে।ভাবছে কত লাভ করছি। আসলে যে কত লস করছে,নিজেদের সর্বনাশ করছে বুঝতে পারছে না।

লক্ষী।অত শত বুঝে কাজ নেই মা। চাহিদা পূরণ করাটায় আসল উদ্দেশ্য। মানুষ যখন চাইছে তাহলে আমাদের কি দোষ মা।আর শোন মা মা প্রোডাকশন করে আমরা ঐ চালে ভাত খাবো কেন সব চাল মর্তে সাপ্লাই দেব।
দূর্গা। জানিনা বাপু যা করার কর তোরা। আমার আর ঐ সব ঝামেলা ভালো লাগেনা। আপাতত দুটি চাল হলেই হল।

গনেশ।মা গো তুমি না অন্নপূর্ণা। তোমার আবার চালের অভাব কি মাগো।

দূর্গা।হ তাই তো বলবি। ঠিক আছে আজকের মতো না হয় অন্নপূর্ণা হয়ে অন্নের অভাব পূরণ করে নিব।তবে শোন গনশা তোকে বলেই রাখি।দপ্তর তখন নিয়েছিস তা কঠোর হয়ে দৃঢ় হস্তে পালন করে বাবা না হলে যে ঘোর অনর্থ নেমে আসবে বাবা।ঘোর অনর্থ।

(চলে যায়)

গনেশ।মা,মা ,মাগো। বুঝলাম মা তোমার কথা।তবে আমি যে অসহায় মা।কি করে রে সামলাই এই দ্প্তর,বুঝে উঠতে পারছিনা মা বুঝে উঠতে পারছিনা।ভোটে জিতে তো গেলাম।পদ পেলাম খাদ্য দপ্তর কিন্তু এখন দেখছি খাবারেরই বড় অভাব,বড় অভাব খাবারের।

(চলে যায়)

লক্ষী।সে যা হয় হোক ।যুদ্ধ আমার চাই ই চাই।আর তার জন্য চাই গুলি বারুদ আর কার্তুজ। আমি কখনো থেমে থাকিনি থেমে থাকবোনা।যেমন করেই হোক আমাকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে,যেতেই হবে।

(ফ্রিজ)

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।