কৌতুক রচনায় দেবাশীষ মণ্ডল

বাঁকি
দশ বছরের গ্রাম্য একটি ছেলে দোকানে এসে বিস্কুট খুঁজে বলল– “দাদু!ও দাদু দু’টাকার বিস্কুট দাও তো।”
দোকানী দাদু বিস্কুট না দিয়ে ছেলেটিকে বলল-আচ্ছা ঠিক আছে তা না হয় দেব,তবে তার আগে তুই তোর বাবা কে গিয়ে বল দোকানী দাদু তোদের পুরনো বাঁকি টা দিতে বলল।
তাই শুনে ছেলেটি দৌড়ে বাড়ি গিয়ে বলল -বাবা ও বাবা !ঐ চকলেট দোকানী দাদু তোমাকে পুরনো বাকিটা দিতে বলল।
আমি তো কোনদিন ঐ দোকানে বাকিতে কোন কিছু নিয়নি তবে চাইল কেন!ছেলেটির বাবা রেগে মেগে আগুন হয়ে ঐ দোকানে গিয়ে বলল- ও কাকা! তোমার দোকানে কবে বাকি নিয়েছি যে পুরনো বাকি টা চেয়ে পাঠিয়েছো? ছেলেটির বাবা বেশ রাগাম্বিত তাই যেন চোখ দিয়ে লাল হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
তাই দেখে ঐ দোকানী বলল-নারে বাপ বাকি কেন চাইব আমি “বাঁকিটা ”চাইছিলাম।
ছেলেটির বাবা আরও রেগে আগুন হয়ে পড়ে এবং গালিগালাজও বেশ আরাম্ভ করতে লাগল।মানে হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যাপার হয়ে গেল। দোকানী বলে তোর পুরনো বাঁকি আছে।আর ছেলেটির বাবা বলে না পুরনো বাকি নেই।
এই আমি দুরে থেকে দেখতে ও শুনতে থাকা ব্যাক্তি যে সমস্ত ব্যাপারটা বুঝলাম যে, কোথাও কিছু একটা গোন্ডগোল পাকিয়ে ফেলেছেন ওনারা নিজেদের মধ্যে ! তাই আমি এই অধম ধীরে ধীরে দোকানী কাকার কাছে গিয়ে বললাম-আচ্ছা কাকু বলুন তো এই দাদা আপনার কাছে কত টাকার বাকি নিয়েছিল?
এই শুনে দোকানী কাকু হো হো করে হাসতে লাগল এবং চোখের জল মুছে নিয়ে বলল-টাকা বাকি কেন নেবে!
তখন ছেলেটির বাবা বলল – নিইনি তো পুরনো বাকিটা চাইছো কেন?
তখন বেশ নরম সুরে দোকানী কাকা বলল-আসলে তোর ঘরে রে পুরনো মানে তোর বাবার হাতে বানানো বাঁকিটা আছে, মানে সিঁড়ি কাঠ আছে ওটাই চাইছিলামরে বাপ।এই সামনে পূজো আসছে তো তাই ভাবলাম ঐ বাঁকিটা লাগিয়ে দোকানের উপরের ঝুল গুলো ঝেড়ে নেব। তখনকার দিনে এই সিঁড়ি কাঠ কেই আমরা বাঁকি বলতাম তাই এখনও ঐ বাঁকি বলে ফেলেছি বাপ।
দুজনের বুঝতে আর বাকি রইল না আসলে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল বেশ সামান্য একটি ভাষার জটিলতায়। তাই কথা না বাড়িয়ে রে তার বাড়ি চলে গেল প্রতিবেশীর সাহায্য করবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
কিন্তু আমি এই অধম আজ আর একবার প্রমান পেলাম বাংলা ভাষা কেন এত কঠিন!আমার এখনও বুঝতে বাকি রইল যে ,এমন সোজা কাঠের তৈরী সিঁড়ি কাঠ কে তখনকার দিনে কেন এমন বাঁকা নাম “বাঁকি” দিয়েছিল ।