T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় দিশারী মুখোপাধ্যায়

হাঁটাহাঁটি
প্রতিদিন বিকালে আমি একটি রাস্তার উপর খানিকটা হাঁটি।
বলে রাখা ভালো , আমার জীবনে
প্রতিদিনই বিকাল আসে , কিছুক্ষণ থাকে ।
বিকাল বিষয়ে এরচেয়ে বেশি কিছু কথা আমি
বলতে আগ্রহী নই , আগ্রহী নয় বিকালও।
সে চায় না আমি তার দীনতা আর অনুজ্জ্বলতা নিয়ে
করুণা ভিক্ষার ঢ্যাড়া পিটি ।
এ রাস্তার শুরু ঠিক কোনখান থেকে , কীভাবে ,
কখন থেকে লোকে তাকে রাস্তা বলে চেনে
জানি না কিছুই।
জানার তৃষ্ণা নিয়ে লাইব্রেরি যাইনি কখনো ,
যাইনি কখনো কোনো পণ্ডিতের কাছে কিংবা
নিছক মোটা চামড়া ,বড় বড় চোখের ,বাঁকা মেরুদণ্ডওয়ালা অভিজ্ঞের কাছেও।
এ রাস্তার শেষ কোথা , আদৌ কি আছে , জানব না ।
জানার ইচ্ছেকে আমি কোনোকালে
কোলে নেওয়া বেড়ালের মতো আদর করি না ।
কেবল খানিকটা অংশে তার
বিকালের কোনো একটি বিকল-সময়ে পায়ে হাঁটি ।
প্রতিদিন এ রাস্তায় আসার আগে
কয়েকটি আকন্দ ,ধুতরো ,পার্থেনিয়াম গাছ চোখে পড়ে ,
তারা স্রেফ প্রতিদিন ওই আকন্দ ,ধুতরো ,পার্থেনিয়াম হয়েই দেখা দেয় ।
কয়েকটি টুকরো পাথর , ভাঙা ইট
আমার পায়ের আশেপাশে মুখ বুজে থাকে ,
দুএকটি নোংরা প্লাস্টিক উড়ে এসে গায়ে পড়ে ।
দুএকটি শালিক ,ছাতারে অকারণ ভয় পেয়ে
এলোমেলো উড়ে যায় । বিকাল বিষয়ে
সেরকম বিস্তারিত কিছুই জানে না তারা । তবু
কীভাবে দিনের পর দিন ,অনর্গল ,পরপর ,আসে দিন
ডানা ও পালক দিয়ে অনুভব করে অনায়াসে ,
ক্যালেন্ডার ছাড়াই।
এইসব প্রতিবেশীদের পাশ দিয়ে চুপিচুপি
রাস্তার শরীরে এসে উঠি ।তারপর উদাসীন হাঁটি ।
আমি এই আংশিক রাস্তার বুভুক্ষু গ্রাসে
যখন প্রবেশ করি
ভেতরে ভেতরে তাকে আমার দেহের হাড়মাস মেটেচর্বি খাওয়াই সাদরে ।
আমার মস্তিষ্ক থেকে হাঁড়ি হাঁড়ি প্রেম খেতে দিই
টকমিষ্টি দইয়ের মতো ।
লোভাতুর কিছু নক্ষত্র
গ্যালাক্সি থেকে চেয়ে চেয়ে দেখে । তাদেরই একজন কেবল
এই খাওয়ানোর পালা শেষ হলে
ধরে ধরে ধীরে ধীরে আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় ।
সে-ই শুধু একমাত্র জানে আর বোঝে
কোথায় কতটা ব্যথা নিয়ে আমি পূর্ণ হয়ে আছি ।
এ রাস্তায় আরও যারা যাওয়া আসা করে
রাস্তার প্রয়োজনে নয়, এমনকি প্রয়োজনহীনতার
সামান্য অকারণটুকু নিয়ে যারা কখনও আসে না ,
তারা কেউ আমাকে চেনে না ।
চেনার বিষয়ে যত সুলুক ও ফর্মুলা আছে
সে সবের অপব্যয়ে বিন্দুমাত্র বিশ্বাসী নয় তারা ।
কেবল পায়ের পাতা থেকে অহংকারের পুঁজ
রোজ ফেলে যায় দুর্গন্ধ মাখিয়ে মাখিয়ে ।
আর যারা ধারেকাছে ,এখানে ওখানে
শামুকের খোল ব্যবহার করে বসবাস করে
সারসের মতো তারা মৌন ব্রত নিয়ে
দূর থেকে , না চেনার গাঢ় নির্যাস দিয়ে একরকম চেনে ।
অথচ এদের প্রত্যেকের জন্য
কমপক্ষে একটি কবিতা আমি রচনা করেছি একদিন ,
টেলিস্কোপের সাহায্য ছাড়াই।
#
প্রতিদিন বিকালে আমি এ রাস্তায় ,এইটুকু রাস্তায়
ফা-হিয়েন হবো বারবার , যতদিন আমিকে আমি
মাধুকরী-অক্সিজেন উপহার দেব।