কৌতুক রচনায় দেবাশীষ মণ্ডল

পঁচার গাঁজা কেস
আর বলবেন না আমাদের দেশে নেটওয়ার্ক এত ভালো, সে কি বলব!
সে দিন আমার এক বন্ধু পঁচা মেলায় গেল একা ঘুরতে ।তো তার ধর্মপত্নীটি হোয়াটসঅ্যাপ করল– কী করছ?
পঁচা হোয়াটসঅ্যাপ করেই উত্তর দিল– মেলায় গজা খাচ্ছি।
সবই ঠিক ছিল মেলা ঘুরে স্বনান্দে বাড়ী ফিরল পঁচা।আর বাড়ি ফিরতেই পঁচার বউ রেগে আগুন।
পঁচা তো বুঝতে পারেনা কি হল!
পঁচার বৌ একেবারে কুরুক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছে আরকি।
কুরুক্ষেত্র দেখতে পাড়ার যত লোক হাজির হল পঁচার ঘরে। ঝগড়া থামিয়ে এই আমিই প্রথম জিঞ্জাসা করলাম কি ব্যাপার পঁচা বোদি?না মানে পঁচার বৌ কে আমি পঁচা বৌদি বলি।
তো পঁচা বৌদি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল জানো ঠাকুর পো, কোনদিন যা করেনি আজ তাই করেছে তোমার এই গুনধর বন্ধুটি!
আমি বললাম কি করেছে বলবে তো।
পঁচা বৌদি হনহন করে ঘরের ভেতর থেকে ইয়া বড় একটা ফোন এনে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেখালো পঁচার সেই গোপন হোয়াটসঅ্যাপ ।যাতে লেখা–“মেলায় আমি গাঁজা খাচ্ছি”!
আমারও চক্ষু চড়কগাছ!আমি পঁচা কে ঐ হোয়াটসঅ্যাপ দেখিয়ে বললাম এ সব কিরে ?শেষে কিনা তুই—–!
পঁচা ঐ হোয়াটসঅ্যাপ এর লেখা দেখে হো হো করে হাসতে হাসতে বলল- একেই বলে আমার দেশের নেটওয়ার্ক বুঝলি।আসলে আমি তো মেলায় গজা খাচ্ছিলামরে, নেটওয়ার্কের দৌলতে সেটা লেখার সময় গাঁজা হয়ে গেছে।
এই দেখ তোর বৌদির জন্য কয়েকটা নিয়েও এসেছি।বলে ব্যাগ থেকে গজা গুলো বের করে দেখাল এবং পঁচা বৌদি কে বলল–কবে দেখবে তুমি হোয়াটসঅ্যাপ করে জানতে চাইবে আমি খেলাম কিনা।তখন আমি যদি উত্তর দিই হ্যা; তা না তোমার কাছে হরতাল হয়ে ফিরে আসবে।
ব্যাপারটা আমিও বুঝলাম এটা আসলে নেটওয়ার্ক প্রবলেম ,মানে নেটওয়ার্ক গজার থেকে আগে গাঁজা খুঁজে পেয়েছে, তাই সেট হয়ে পঁচা বৌদির হোয়াটসঅ্যাপ এ ঢুকে পড়েছে।তাই পঁচা এমন গাঁজার কেস খেয়েছে।