গল্পবাজে দেবাশীষ মণ্ডল

গুণিন
পথের ধারে বসে এক গুণিনকে রতন হাত দেখানোয় গুণিন মহাশয় বলেছিলেন “বিয়ের পর তো তোর স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হবে মাঝে মাঝেই!”
সে দিন রতন তাঁকে বলেনি যে তার বিয়ে হয়ে গেছে। শুধু বলেছিল আপনার গণনায় ভুল আছে!গুণিন মহাশয় বলেছিলেন হতেই পারেনা “আমি বিশ বছর এ লাইনে আছি, আমার গণনায় ভুল হয়না। কিছু না বলে রতন বাড়ি চলে এসেছিল।
গুণিনের ভুল হয়তো হয়না, কারণ প্রত্যেকটা পরিবারেই তো অল্প বিস্তর কথাকাটাকাটি হয়েই থাকে!
আজ বিয়ের বেশ কয়েকটা বছর কেটে গেছে রতনের।তার বাড়িতে কোনদিন শুনিনি যে খুব বড় ঝগড়া বা চেঁচামেচি হয়েছে।আর রতনের বৌ তো সব দিক থেকে গুণে ভরপুর।
হ্যা ঝগড়া একদিন হয়েছিল,যেদিন রতন রাস্তার ধারের ঐ গুণিন কে হাত দেখানোর কথা সুশিলা দেবীকে বলেছিলেন ।সুশিলা দেবী শুধু একটা ঝগড়ার কথা বলেছিলেন “তুমি কোন দিন কাউকে হাত দেখাবে না।”
হ্যা ঝগড়া হয় তার জন্যও গুণিন লাগে।আবার তা কাটান দিতে তাবিজ,কবজ লাগে। জলপড়া বা গৃহ শান্তি করাতে হয় কয়েক হাজার খরচখরচা করেই।গৃহে শান্তি হোক বা না হোক এটা বড় কথা নয়।বড় কথা গৃহ শান্তির নামে কিছু মানুষ খেয়ে শান্তি, আবার কিছু মানুষ পেয়ে শান্তি পায়।
আবার ঝগড়া না করার জন্য লাগে সুশিলা দেবীর মত দেবী মন্ত গুণিনকে। ভাগ্য দেখা গুণিনরা কি করে ভবিষ্যৎ বলতে পারে জানিনা।তবে সমাজ বদলাতে পারে একমাএ শিক্ষা আর এই সুশিলা দেবীর মত নর ও নারীরাই।এরাই তো সমাজের ভবিষ্যত গুণিন।