নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল (পর্ব – ১)

কৌতুক নাটক – কি কেলেঙ্কারি
১) বুড়ো – বয়স আশি বছর।হাতে হ্যারিকেন ও লাঠি।পরনে ধুতি, গেঞ্জি।মাথায় পাকা চুল সহ টাক।
২) নাপিত – বড় কাঁচি ও সেলুনের সরঞ্জাম থাকবে।বয়স চল্লিশ বছর। পরনে লুঙ্গি ও জামা।
৩) মাছ বিক্রেতা-খালোয় ভর্তি মাছ থাকবে (মাছ বিক্রেতা বোঝাতে প্রয়োজনীয় সুবিধা মতো)। বয়স পঁয়ষট্টি।ধূতি ছোট করে পরে ও খালি গা।গামছা গলায়।
৪) পান পাতা বিক্রেতা-মাথায় পান ভর্তি ঝুড়ি।মুখে পান থাকবে এবং সর্বাঙ্গে পান ঝোলানো।বয়স পঞ্চাশ বছর।পরনে লুঙ্গি ও জামা।দাঁত কালো কালো ছোপ।
৫) বাচ্চা ছেলে-বয়স নয় থেকে দশ বছর।গলায় দুধের মাইপোষ ঝোলানো।হাফ প্যান্ট ও গোল গলা গেঞ্জি।কপালে কাজলের বড় টিপ এবং নজর না লাগার জন্য কপালের বামদিকে খুব বড় টিপ ও পায়ে কালো কার বাঁধা থাকবে।(বড় কেউ বাচ্চা সাজবে)
৬) চা ওয়ালা- বয়স চল্লিশ বছর।লেমন চা বিক্রেতা।পরনে ফুল প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট।কমেডি টাইপ চেহারা।
৭) স্বপন – পাগল পাগল ভাব কিন্তু পাগল নয়।স্বভাব স্বপ্ন দেখা ও তোতলা কথা বার্তা,কানেও কালা।জেগেও স্বপ্ন দেখে।বয়স ত্রিশ।
…..
কৌতুক নাটক – “কি কেলেঙ্কারি”
প্রথম দৃশ্য – রাস্তা
(বুড়ো হ্যারিকেন ও লাঠি হাতে বলতে বলতে আসে)
বুড়ো। কেলেঙ্কারি, কেলেঙ্কারি, কি কেলেঙ্কারি। আমার বৌ বলেছে, ভাল্লাগে না এই কেলেঙ্কারি আমার একে বারে ভাল্লাগে না। তুমি যে খানে খুশি চলে যাও।তাই বহু ভেবে ভেবে আমার বহু আদরের একমাত্র বৌ এর কাছে পারমিশন নিয়ে এই হ্যারিকেন ও লাঠি নিয়ে যাচ্ছি গো—-!না না না তোমরা উল্টো পাল্টা কিছু ভেবে বসোনা যেন।আমি অমন কাঁচা কাজ, পাকা চুলের মাথায় একদম করবো নাই। আমার বৌ এর দিব্যি।আমি হলাম গিয়ে বৌ এর মতে চালাকের পৌষট্টি নম্বর বুদ্ধিজীবী। বিশ্বাস হয়নি তো!হে হে হে(হাসি) বলছি এ দিনের বেলা হ্যারিকেন আর লাঠি কেন হাতে নিয়ে বেরিয়েছি তোমরা বলতে পারবে? হে হে হে পারবেনা তা জানি । তোমাদের বুদ্ধির দৌড় আমার জানা আছে।তোমাদের যাদের বৌ আছে তাদের না হয় বুদ্ধি একটু একটু খুলছে আর যাদের নেই !হে হে হে তাদের কি বুদ্ধি বাড়বে কোন দিন!কথায় বলে না বৌ পালালে বুদ্ধি কমে,বৌ থাকলে ডালে যমে। হে হে হে আমি হলেম বুদ্ধি জীবী মানুষ। আমি যখন ছোট ছিলাম।না মানে তখন বিয়ে থা সব হয়ে ছিল তেমন ছোট।ছোট ছিলাম বলছি কারন আমার মা তখনও আমাকে খোকা,খোকা (আদরের ভাব)করে কত আদর করে ডাকত।সে কি বলবো যেন আদরে চাদর ভিজিয়ে দেবার জোগাড়।ভাগ্যিস আমার এই এইটা ভিজত নাই(পরনের ধূতি দেখিয়ে বলবে)।না হলে তোমরা সব ভাবতে আমি হিসস করে ফেলেছি বৌ এর সামনেই।(ফিঙ্গ দিয়ে হাসি )।কি লজ্জা,কি লজ্জা।
(সহসা নাপিত স্ব-মহিমায় এসে বলে)
নাপিত। লজ্জা, ঘৃনা,ভয় তিন থাকতে নয় ।আমার এ কাটাকুটি লাইনে ও সব থাকলে চলে নাকি। কি বলেন কাকা?আমার কাজটাই হলো কাটা-কুটি।মানে এই কাটা কুটি।( কাঁচি দেখিয়ে বলে)
বুড়ো।কি কাটবি।এ্যা কি কাটবি?চুল!বলি আমার এইটি কি কিছু কাঁটার আছে।দেখে কথা বলবি তো নাকি।দেখছিস ছাঁদে নাই বাম্পারে কটা ঝুলছে।(মাথায় হাত বুলিয়ে) লজ্জা!হে হে হে-
না তা থাকবে কেন, আমার তো একদম লজ্জা নেই। তাই বলছি তোর মত আমার একটা নয় দু’টো নয় চারখানা নয় ; নয় ছয় করে করে ছয় খানা ছেলে আছে হতভাগা ।তাহলে বুঝ ,এই বাজারে আমার লজ্জা কোথায় আছে ?আর ঘৃনা হে হে হ—–
নাপিত। না মানে এ লজ্জা; সে লজ্জা নয় বুঝলে কাকা!এ লজ্জা হল-
বুড়ো। লজ্জাবতী লতা! লজ্জা নয় মানে! লজ্জা, আবার লজ্জা নয়!বলি লজ্জার আবার পাশ ফেঙ্গড়া, থাকে নাকি?যত্তসব! লজ্জার ভাই বোন আছে নাকি !সৎ হোক বা অসৎ, কেউ আছে নাকিরে? তুই তবে হতভাগা কাটা কুটি করেছিস লজ্জা কে । তুইই ভাগ করছিস ভাগ!
নাপিত।না মানে , আমি ভাগ করিনি, আমি ভাগ করিনি ,আমি ভাগ করতেই জানি না।আমি শুধু চুল ভাগ করি মানে কাটিং করি। আমি হলাম গিয়ে নাপিত মানুষ। এই লজ্জা করে যদি চুলে হাত না দিই তবে কি করে চুল কাটব! ঘৃনা করে যদি দুরে দাড়িয়ে থাকি হাত না দিই চুলে ,গালে ।তাছাড়া চুল কাটতে কাটতে কান কাটা যাবে এই ভয় করে কি চুল কাটা চলে!
বুড়ো।চলবে না , চলবে না কিছুতেই চলবে না। আমিও ভয় করলে চলবেনা।যে কাজে বেরিয়েছি তাতে আমাকেও লজ্জা , ভয় বা ঘৃণা রাখলে কিন্তু কিছুতেই চলবে না আমার বৌ বলেছে।
(খালোয় নিয়ে মাছ বিক্রেতার প্রবেশ)
মাছ বিক্রেতা । ঘৃণা থাকলে আমার কি করে চলবে ।এই মাছ নিয়ে আমার জীবন চলে।মাছের এই লালা জল , গন্ধ জল কে কি আমি ঘৃণা করব।তবে তো আমি মরেই যাবো মরে।
বুড়ো ।(মনে মনে)তোর বৌ বুঝি মরতে বলেছে?যদি বলে তবেই মরবি হতভাগা।বৌ যা বলবে তাই করবি। আমার আদরের বিয়ে করা বৌ আমার খোকাদের মা। নাতি নাতনীর ঠাকুমা আমাকে এই মরতেই তো বলেছে। একবার দেখে লি মরে কেমন লাগে।তারপর না হয় তোমাদের কে বলব কেমন লাগে মরতে ।(উদ্যেশ্যে)শুন হে নাপিত ভায়া আমি মরলে আমার দাড়ি কামিয়ে দিও বেশ ভালো করে।হে হে হে একে বারে চাকন চিকন বানিয়ে ফেল আমায়।হে হে হে আর এই এই বড় বড় মাছ দিও হে ধীবর ভায়া পুকুরের টাটকা তাজা মাছ আমার শ্রাদ্ধে। এ্যা জীবে যেন জল চলে এলো।(সড়াত করে জীব ভিতরে টানে)তোমরা আবার কাউকে বলে বেড়িয়ো না যেন ।বুঝোয় তো খাবার জিনিস লোভ তো সবার হয়। আমার বৌ তো তাই বলে।হে হে হে।না যায় আমার বউ যা করতে বলেছেন সেটা করে আসি।যাই যাই বুঝলে একবার ঘুরেই আসি বৌ এর কথায়।বৌ কে ভালোবাসি রে ভীষন ভালো বাসি।তাই বৌ এর কথায় উঠি-বসি।
(এদিক ওদিক তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে যায়)
মাছ বিক্রেতা ও নাপিত। কিন্তু –
নাপিত। বৌ এর কথায় চলে গেল।বৌ যা বলে তাই করবে! এই বুড়ো বয়সে। কিন্তু ও যাচ্ছে কোথায় এই দিনের বেলা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে লাঠি হাতে?সত্যি মরতে নাকি!
মাছ বিক্রেতা ।না না এই বয়সে কেউ মরতে যায়! আমার মনে হয় মাছ ধরতে যাবে কোন পুকুরে।রাতের বেলায় মাছ ধরা হবে তাই এই হ্যারিকেন আর লাঠি নিয়ে যাচ্ছে।শুনলি তো বলল না বৌ বলেছে মরতে ,মানে মাছ মারতে।(হাসি)
নাপিত। না, না হতেই পারেনা। এই বুড়ো বয়সে মাছ মেরে গাদা করবে। শুন কি হতে পারে শুন। আমার মনে হয় ঐ পাশের গ্রামে আমি একটা…
চলবে