সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে দেবদাস কুন্ডু (পর্ব – ২৬)

লড়াইয়ের মিছিল

পর্ব – ২৬

বাবাকে নিয়ে আবার সম্যসা দেখা দিয়েছে। রিনা বলল
সুদর্শন ক্লান্ত। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলল,কি হয়েছে তোমার বাবার?
নতুন কিছু না । সেই পুরনো রোগ।
পুরনো রোগটা কি সেটা তো বলবে।
উল্টো দিকের সোফায় বসে রিনা বলল, তুমি কি ভুলে গেলে?
অফিসে এতো কাজের চাপ মনে রাখতে পারি না সব।
তোমার বাবা হলে ভুলে যেতে পারতে?
এই দেখ এখানে তোমার বাবা আমার বাবা আলাদা করছো
কেন?
আমি করছি না তুমি করছো।
কাজের মাসি চা দিয়ে গেল।চায়ে চুমুক দিয়ে সুদর্শন বলল, ঝগড়া না করে বলো কি হয়েছে তোমার বাবার?
সেই পুরনো রোগ।
পুরনো রোগ টা কি সেটা বলো।
বাবা আবার সেই স্বপ্ন টা দেখেছে।
কোন স্বপ্ন?
তুমি সত্যি সব ভুলে গেলে?
বলছি তো কাজের চাপে সবকিছু মনে রাখতে পারি না।
স্বপ্ন টা হলো একটা ছেলে বাবাকে ছুরি মারছে।বাবা বাঁধা দিচ্ছে ছেলেটি শুনছে না।বলছে বুড়ো তোকে আজ মেরে ফেলবো। তুই আমার নামে সম্পতি লিখে দিবি কিনা বল?
হ্যাঁ।এবার মনে পড়ছে। তুমি জানলে কি করে?
আজ সকালে বাবাকে ফোন করেছিলাম,কেমন আছো বাবা?বাবা বলল ভালো নেই।কেন কি হয়েছে?আমি জিগ্গেস করলাম।বাবা বলল আবার সেই স্বপ্ন টা দেখলাম।
বাবা কি এখনো ওষুধ খাচ্ছে?
বলল, ওষুধে কোন কাজ হয় না।
এর মধ্যে কি বাবা ডাঃ দাশের চেম্বারে ভিজিট করেছিল?
মনে হয় না। রিনা বলল।
তাহলে অসুখ সারবে কি করে? তোমার তো উচিত ছিল বাবাকে ডাঃ দাশের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া।
আমার ওতো সময় কোথায়?ছেলেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকি।
তুমি একা ছেলে মানুষ করছনা।আরো মায়েরা করছে।
শ্বশুরের ওপর তোমারো তো কিছু দায়িত্ব আছে।
তা ঠিক। আমার বাবাকে নিয়ে এতো ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম যে তোমার বাবার অসুখটা ভুলে গেলাম। আচ্ছা সেবার ডাঃ দাস কি যেন বলেছিলেন?
কাগজ পড়তে না করে ছিলেন।কাগজ পড়লে বাবার টেনশন হয়।কাগজের ঐ রকম কোন খবর পড়ে ওনার ভিতর সেটা রিএকশন হয়। উল্টো পাল্টা স্বপ্ন দেখেন।
বাবা কি এখনো কাগজ পড়েন?
না পড়ে কি করবেন?একা মানুষ। রিটায়ার্ড পারসেন।সারাদিন বসে বসে কাগজ পড়বেন আর উদ্ভট
ভাববেন।
ছেলে খুন করে সম্পতি নিয়ে নেবে ,এই যে তোমার বাবার ভয়, এটা অমূলক।কারন তোমার দাদা ,সেরকম ছেলে নয়। তোমার দাদাকে খবর দিয়েছ?
তোমার সঃগে আলোচনা না করে কিছু করতে পারছি না।আর দাদাকে বলে কি হবে?দাদা বলবে ,বাবার ঘোড়া রোগ হয়েছে।এর জন্য আমি ব্যবসা ছেড়ে আমেদাবাদ থেকে কলকাতায় ফিরবো? মোটেও না।
তা অবশ্য ঠিক কথা।ও এসে কি করবে?যা করতে হবে আমাদের ই করতে হবে। সুদর্শন বলল।
আমি বাবাকে নিয়ে এসেছি। রিনা বলল।
এখানে এনেছো?
হ্যাঁ। বলছিল বুকে ব্যাথা হচ্ছে।তাই ডাঃ দেখিয়ে ই সি জি করে নিয়ে এলাম।
ভালো করছো।ই সি জি রিপোর্ট কি বলছে?
খারাপ না। ঠিক আছে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।