T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় দীপায়ন হোসেন

আর নয় ধর্ষণ, খুন
পৃথিবীর বয়সটা প্রায় ৭০০কোটি বছর
আমরা আর পিছনে তাকাবো না
কারণ আমরা ওদের স্বজন নই,
আমরা সামনের দিকে তাকাবো না
কারণ আমাদের স্বজনরা বিপদে পড়বে
আমরা ডানে-বামে, উপরে-নীচে কোনদিকেই তাকাবো না
বরং চোখ বন্ধ রাখবো
তাতেই ভালো।
আমরা নারীবাদী নই
আমরা কোনো ধর্মান্ধ বা জঙ্গী কিছুই নই
আমাদের অস্ত্র নেই তবে আইন আছে
আমাদের কর্তাবাবু নেই, কলম আছে
আমরা দেখতে পাই না তবে চোখ আছে
আমরা কানে শুনি, দুঃখ প্রকাশ করি
আমরা শান্তি চাই, বাসের লাইনে দাঁড়াই
আমরা সমাবেশে থাকি, ভোট দিতে ভুলে গেছি
কিন্তু প্রশ্ন করি না কেন?
কেন বারবার?
পুরুষের ভোগে বেশ্যালয় আছে
কমবেশি সকলের অধিকার কিংবা বিয়ের উপাধিপত্র আছে
সকলের বাড়িতে খাট, গদি, চাদর, বালিশ সব আছে
সকলেরই তো কম বেশি একটা শরীর আছে
তবে কেন?
তবে কেন বারবার এই নারীদের সম্মানে হানা?
তবে কেন বারবার ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাক্ত যোনি?
পৃথিবীর কোনো দেশ কোথাও বাদ যায় না
শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউ বাদ যায় না
শরীর শুধু শরীর, মাংস শুধু মাংস
বিংশ শতাব্দী পার করেও আমরা এখনো বদলায়নি
এখনো তো আমরা সবাই মানুষ হতে পারি নি।
এখনো আমরা মানুষরূপী অমানুষ দেখি
হ্যাঁ, জনাব আপনাদের বলছি
আজ আরজিকর কাল হয়তো আমি, পরশু আপনি
আপনার মেয়ে এখন কি করছে? পড়তে বসেছে,
আপনার বোন এখন কি করছে? অফিসে কাজ করছে
আপনার স্ত্রী এখন কি করছেন? রান্না করছেন
আর আপনার মা? আচ্ছা গুণগুণ করে গাইছে গান।
ভাবুন চোখ বন্ধ করে ভাবুন, যদি আপনার?
কি ভয় করছে?
জনাব, এখনো সময় আছে, আপনারও…
আর কত একই খবর বারবার আর কতদিন?
একই জনসভা কিছুক্ষণ শুধু এইটুকুই
খবর, মিডিয়া, বেচাকেনা, টি আর পি কিছুদিন
মোমবাতি মিছিল, শোক আর বিজ্ঞাপন
কিছুই যায় আসে না, আমরা শুধু ভুলে যাই
কারণ আমরা ওদের কেউ না,
কিন্তু যার যায় তার যায়
আর আমরা,
আবার কোনো ধর্ষণের খবরের অপেক্ষায়।
অনেক তো হলো, এইবার উঠুন, জাগুন
যে নারী আমাদের মায়ের জাত, সম্মান করি
তাকে এইবার নিজের আসনে অধিষ্ঠিত করার সময় এসেছে
সময় এসেছে রুখে দাঁড়িয়ে বলার
আমরা শান্তি চাই
আমরা বিচার চাই
একটাই শাস্তি…
কেটে দেবো।