কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে দীপায়ন হোসেন

বৈশাখ এলো রে
বৃক্ষের ডালে ডালে নতুন পাতা
ঘরে ঘরে আনন্দ বার্তা নিয়ে
পুরাতন ধুয়ে মুছে বৈশাখ এলো রে
বৈশাখ মানে বাঙালীয়ানা নব নব সাজ
ছুটোছুটি হুড়োহুড়ি কতশত কাজ
গ্রাম-শহরে চৈতালি, পাহাড়ে বৈসাবি
মহাজনের হালখাতাটাও বৈশাখি উৎসব
মাটির বাসনে কাঁচা-লঙ্কা, পান্তা-ইলিশ
পথে পথে আল্পনা, ভোরের শোভাযাত্রা
শীত গেছে তাতে কি, পিঠাপুলি নাগর দোলা
হাঁটি হাঁটি পা পা করে নতুনের খোঁজে চলা
দোকানে দোকানে হালখাতা উৎসব
মণ্ড-মিঠাই পেট পুরে সব খাবে
দুপুর গড়িয়ে সাঁঝ এসে যায়
তবু উৎসবের রেশ না কাটে
ধুতি আর পাঞ্জাবিতে ছেলের দল সাজে
শোভাযাত্রায় ঢাক-ঢোল হারমনিয়াম বাজে
লাল-সাদায় বাঙালী নারী অপরূপ সাজে
ঢাক-ঢোলের জামা গায়ে শিশুদের হাসির রেশ
বটতলায় বাজে সুর একতারা হাতে
বাউলেরা গান ধরে তপ্ত রোদও হাসে
নদীর বুকে জমে জল, শুষ্ক হাওড়-বাওর
কখন যে উঠে ঝড়, যায না করা ঠাওর
পশু-পাখি রঙিন সাজে শোভাযাত্রায় যায়
বছরটাকে এভাবেই করবে মঙ্গলময়
নৃত্য গানে আসর মাতে আনন্দের নাই শেষ
সন্ধ্যা হলেও কাটতে চায় না উৎসবের রেশ
নব রূপে নতুন সাজে, নতুন বছর আসে
চোখের তারায় সব পুরোনো স্মৃতি ভাসে
পুরেনোকে পেছনে ফেলে নব দিনে পা
বৈশাখ এসে গেছে বরণ করে যা
আনন্দ শোভাযাত্রায়
বাঁশরীয়ার বাঁশির সুরে
তরুণ-তরুণীর নব উল্লাসে
ঢোল- ডুগডুগির বাউল গানে
মনুষ্যত্বের মিলন মেলার বৈশাখ এলো রে।