কবিতাগুচ্ছে দেবাশিস ঘোষ
মৃত্যু
একটা তীক্ষ্ণ বিন্দু
অন্য পারে শূন্যতার পিঠে পিঠে চলন্ত শূন্যতা
যতদূর তুমি যাবে ততদূর সঙ্গে যাবে অবশ শূন্যতা
লেজ নাড়বে, বিস্কুট খাবে জামায় ছোপছোপ দাগ নিয়ে
তুমি পেরিয়ে যাবে লেভেল ক্রসিং, খুনখামারি মাঠ
এখানে তুমি নেই, তোমার ছায়া ।
যে তোমার অনস্তিত্বের অস্তিত্ব
জীবন যতটা জুড়ে দাগ
তার বেশি শূন্যতার বোধ
জীবনের অগ্নি শেষে দু’পাশে শূন্যতা
বৃত্ত স্বভাবে সে বেঁকে যায় পরিধির দিকে
জীবনকে ফের ছুঁতে চেয়ে
আগে মৃত্যু, পরে মৃত্যু, মাঝখানে রোদ্দুরের বীজ
আমার এই সমস্ত অক্ষর শূন্যতায় উৎসর্গ করেছি
মৃত্যুকে নিজের খুব পরিচিত বন্ধু মনে হয়
জবরদখল
এলিয়ে পড়া একটা দিন, আর এক কাপ বিস্বাদ চায়ের
জোয়ার
জলশ প্রস্তাবগুলো ঘিরে ফেলছে বিকেলের খাড়া মগ্নতা
রাস্তা গড়িয়ে যাক ঢালু হয়ে নেমে যাওয়া ধুলোতে বালিতে
তোমার জন্য অপেক্ষায় সব স্টেশনের কংক্রিট, পাতাঝরা গাছ
রোদনীল, ছায়াজল, ঝিকিমিকি তারা
প্রতিটি রঙের নিচে স্তূপাকার ব্যর্থ মুখোশ
আমি তো অক্ষর জ্বেলে রান্না করি পরবাস,
রান্না করি দুঃখিত বেগুন
ঝড়ের গন্ধে আমি ঢেলে দিই পারফিউম
গাছের অপেক্ষা মাপি দ্রাঘিমাংশের খোপে খোপে
আমার ফুৎকার থেকে তারা কেন কুটোও ঝরে না
ছায়াগুলো উড়ে এসে টপাটপ বসে পড়ছে আলোর বিছানায়, চেয়ারে, শহর গঞ্জের ফুটে ওঠা রাস্তায়