গল্পে দেবযানী ঘোষাল

বিসর্জন
মেয়েবেলার বন্ধু বান্ধব বলতে অনেক ছিল। পিঠোপিঠি দু বোনের সব বন্ধুই এক স্কুলে পড়ার দরুন। আজ মধ্যগগনে এসে মানতে নারাজ বোনের বন্ধুর অকাল বিসর্জন। না খোঁজ নিইনি বাইশ বছরের বিবাহিত জীবনে। জানতাম মেয়েটি শান্ত, মেধাবী, চাকরিরতা। একসাথে ওঠাবসা। সুখে দুখে পাশে থাকা। পূজোর সময় ঠাকুর দেখা। সবই একসাথে। কিন্তু হঠাৎ সেদিন ওর অকাল প্রয়ান মনটা ভীষণ নাড়া দিল। এখনও তো হয়নি সময় যাবার। শিক্ষিত হলেও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা আজও সব মেয়ের থাকে না। শ্বশুরবাড়ির মানসিক অত্যাচার নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দিল অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া। কি হবে বেঁচে? কার জন্য বাঁচা? এই ছিল অন্তরের অতলে নীরব শান্ত চোখের ভাষায়। বলি হল আরও একটি মেয়ে বিজয়ার মধ্যে। হেরে গেলাম আমরা আবারও অনৈতিকতার কাছে। গোপন খুনের কাছে। এমন খুন কতই হচ্ছে। আমরা কিছু বলি না। কিছু করি না। ওরা জিতে যায় বোবাদের কাছে।