কবিতায় ডরোথী দাশ বিশ্বাস

শিকল তুলিনি…
তোমার কন্ঠ রোধ করেছি দু’হাতে বজ্রমুষ্টিতে
গলা তো কাটিনি, এটুকু রক্ষা ভোগো আত্মতুষ্টিতে
মাঝে মাঝে দেখি খিড়কিটি খুলে তোমার অগোচরে
জড়বৎ তুমি রয়েছো ছবি হয়ে খবর নাই বা এলো গোচরে।
পাপ পুণ্যের ব্যাখ্যাটা দিই নিজের মত করে
তার্কিক আমি, স্বার্থপরও যদিও গিয়েছি হেরে
আলাপচারিতার প্রথমদিনের কাব্যিক পরিভাষা
শেষ দিনে এসে বোধগম্য হলো সঠিক পেলে দিশা
যতই হও না বুদ্ধিতে দড় ছুঁতে পারবে না জানি
তুমি মহীয়সী, তবু একঘেঁয়ে— নিঃস্ব স্বপ্নখনি
এদিকে অজানা রঙীন ঝলক দিগন্ত ছুঁয়ে নামে
কেটে যায় দিন, কেটে যায় সাঁঝ ডাকে কে অর্ধযামে
অচেনা ভাষা রিনরিন ধ্বনি কানে ঢালে সুরছন্দ
ঢলোঢল জল, নদী ডেকে বলে পাবে কোথা এত আনন্দ?
কোন্ পুরাতন প্রাণের টানে দ্বিধাবিভক্ত চিত্ত?
কিছু হারায়নি, টানও পড়েনি রাজকোষ জুড়ে বিত্ত
তবু বেঁচে থেকো, করুণায় থেকো, কেটে তো দিয়েছি বন্ধন
শাস্তিটা জোর, শিকল টানিনি, সীমা যদি করো লঙ্ঘন।
মন যা চেয়েছে সেটাই করেছি কে বলে তা মহাপাপ?
পড়েনি বাধা সৃষ্টিকার্যে লাগেনি তো কোনো অভিশাপ।