প্রবন্ধে দীপঙ্কর দে

চন্দ্রযান-৩: মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের অবদান:
১৯৫৭ সালের অক্টোবর মাসের ৪ তারিখে সোভিয়েত ইউনিয়ন মানবজাতির সর্বপ্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে। একই সালে নভেম্বরের ৩ তারিখে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুৎনিক ২ উৎক্ষেপণ করেন। এটির সাহায্যে লাইকা নামক কুকুরকে মহাকাশে সর্বপ্রথম জীবন্ত প্রাণী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
এভাবে মহাকাশ অভিযানের অগ্রগতি চলতে শুরু করে। তারপর ১৯৬১ সন মহাকাশ অভিযানের ঐতিহাসিক ঘটনা সাক্ষী হলো সারাবিশ্ব। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্পটিনিক-৩ তে মূণষ্যবাহি মহাকাশ অভিযান। ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশে থেকে 108 মিনিট পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল।তখন আমি স্কুলে ভর্তি হই নি। পরে বাবার কাছে এই নভোশ্বচর মহাকাশ বিজয়ের কথা শুনেছিলাম। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল একজন বিজ্ঞান মনস্ক ছাত্র হবার।
তারপর ১৯৬৯ সন Appollo 11 এর যুগান্তকারী পদক্ষেপ NASA এর বিজ্ঞানীদের। চন্দ্রপৃষ্ঠে মূণষ্যবাহি যান পাঠানো।তখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি।কি আনন্দ,রেডিওর সামনে বসে ধারাবিবরণী শুনা(তখন টিভি, মোবাইল ছিল না)। পরের দিন পত্রিকায় ছবি দেখা, নীল আর্মষ্ট্রং দের তাদের মাটিতে পদচারনা দেখা।
তারপর ভারত হোমিও ভাবা,সতিশ ধাওয়ান ও সারাভাই বিজ্ঞানীদের হাত ধরে মহাকাশ গবেষণারয় অনেক দূর অগ্রসর হয়ে গেছে।
আর তখন ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে ইন্দিরা গান্ধী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা(১৯৮২) মহাকাশ অভিযান শুরু করে। ইন্দিরা গান্ধী জিজ্ঞেস করছিল রাকেশ শর্মাকে,”উপর থেকে কেমন দেখছো ভারতকে?”: উত্তরে বলেছিল: “সাঁরে জাহাসে আচ্ছা হিন্দুস্থান হামারা”। তারপর কল্পনা চাওলা NASA সহযোগিতায় মহাকাশ পাড়ি( তবে পৃ্থিবীতে ফিরে আসতে পারেন নি) ও সোনিতি ওয়াট্সসন মহাকাশ যাত্রা।ভারত আজ মহাকাশ বিজ্ঞানে চার নাম্বার দেশ ।গর্ব ভারতীয় হিসাবে আমাদের।
চন্দ্রযান-৩:
চন্দ্রযান ৩ এর পূর্বের চন্দ্রযান২ এর মডেলেই তৈরি ও মিশনও পূর্বের অনুসারে তৈরি করা হয়েছে।এর কাজ চাঁদের পৃষ্ঠে soft landing (নিরাপদ অবতরন)। উদ্দেশ্য চাঁদের বৈজ্ঞানিক /রাশায়ানিক বিশ্লেষণ করা।
এতে আছে লেন্ডার মডিউল,প্রপোলশান মডিউল ও রোভার।এর অর্ভিটার নেই।চন্দ্রযআন২ এর অর্ভিটার সাথে গিয়ে চন্দ্রযান-৩ যুক্ত হবে যা এখন চন্দ্রকে ১০০ কিঃমিঃ ব্যাসার্ধে প্রদিক্ষিন করে চলছে। সম্ভবত ২৩-২৪ আগষ্টে চন্দ্রপৃষ্ঠে চন্দ্রযান অবতরন করবে। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরনের শেষ ১৫ মিনিট হলো অগ্নিপরীক্ষা বিজ্ঞানীদের।তখন ঠিকঠাক অবতরন হলো- আসল বিপদ(crucial period)থেকে অতিক্রম করা।
১৪ জুলাই,২০২৩,সতিশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে থেকে দুপুর ২-৩৫ মিনিট চন্দ্রযানের বহুপ্রতিক্ষিত ঊৎপক্ষেপন সাফল্যের সাথে হলো ও সারা বিশ্ব তা পর্যবেক্ষন করলো। আর ২৪ আগষ্ট সফল অবতরনের অপেক্ষায় আমরা থাকবো।
আমরা ভারতীয়রা,ISRO বিজ্ঞানীদের এই চার বছরের নিরলস প্রচেষ্টার সাফল্য কামনা করি ও সফল মিশন প্রার্থনা করি।
ভারত আমার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাবে।
গাণিতিক বিশ্লেষন(Mathematical explanation)
চন্দ্রযান উপবৃত্তাকারে (elliptical orbit )এ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে চন্দ্রযানের-৩ orbit-টি খুব বড় করবে তাতে orbit এর perijee চাঁদে চলে যাবে। তারপর চন্দ্রযানের speed কমিয়ে অক্ষপথ ছোট করবে ও চাঁদের মহাকর্ষীয় অঞ্চলে orbit নিয়ে চলে যাবে । Elliptical orbit টিকে circular করে চন্দ্রাযান২ এর orbit এর সাথে ইহা মিশবে এবং চন্দ্রযান-২ এর সাথে attached হবে।তারপর ISRO বিজ্ঞানীরা পরবর্তী কাজ করবে soft landing করার জন্য।
বর্তমানে,ISRO বিজ্ঞানীরা এর কক্ষপথ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। উৎক্ষেপণের পরে, চন্দ্রযান-৩-কে ১৭৯ কিলোমিটার পেরিজি এবং ৩৬,৫০০ কিলোমিটারের অ্যাপোজি সহ একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল। এখন(২৫শে জুলাই )এটিকে ৪২ হাজার কিলোমিটারের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।
এভাবেই চন্দ্রযআন৩ তার অভিষ্ট মিশন সাফল্যলাভ করবে।আমরা সেই ২৪শে আগষ্ট দিনটির অপেক্ষায় রইলাম।