।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় দীপশিখা দে

বেগুনি আলিঙ্গন

অনেকদিন পর ভার্চুয়াল জীবনের বাইরে সব পরিচিতদের দেখা হবে। রঞ্জনা ফোনের মেসেজ দেখলো, পরশু সবাই দেখা করছে মেলা প্রাঙ্গনে। একটা থিম ঠিক করা হয়েছে। সকলে বেগুনি ঘেষা রঙের শাড়ী পড়বে। যদি কারোর পক্ষে একান্তই সম্ভব না হয় তাহলে বেগুনি হাতঝোলা। আলমারি খুলে এই শীতের দুপুরে সব কটা শাড়ী তে আঙ্গুল চালিয়ে খুঁজতে গেলো এমন এক অসম্ভব রং কে। লাল ,সাদা, হলুদ নয় , বেগুনি !
কলেজ নয়, একেবারে স্কুলের সহপাঠিরা সব।সোশ্যাল মিডিয়ার হৈ হৈ জীবনে সামাজিক মিলন ক্ষেত্র। কত চেনা চেহারা, সময়ের সাথে কিছু বদলেছে। সকলের সুখী গৃহকোনের ছবি। ফটো ,আড্ডার জমজমাট আসর। পনেরো বছর দেখা নেই এমন মানুষ ‘ কি রে ফ্রেন্ড রিকু পাঠিয়েছি একসেপ্ট কর বলে টিং টং। ইচ্ছা না হলেও ছবি দেখে , মজার গল্প জোকসের মধ্যে নিজের কিশোরীবেলা ফিরে পাওয়া। তাই রঞ্জনাও দলে নাম লিখিয়েছে।
আজকের রঞ্জনা সেই কিশোরীবেলার রঞ্জনা – তফাৎ অনেকটা। তবু চনমনে কিশোরীবেলা দুই বেনুনী ঝুলিয়ে সেই স্কুলের বেল পড়লে দৌড়ে বাড়ির দিকে ছুটে যেত, রাস্তায় অনেক গল্প মজা সব মনে করিয়ে দেয় এই গ্রুপ আড্ডা।
কিন্তু এবার অনেক হলো সকলে ভার্চুয়াল থেকে সশরীরে দেখা করবে, কিন্তু এই থিম ব্যাপারটায় কেমন একটা দ্বিধা আসছে বারবার মনের মধ্যে রঞ্জনার |
এই তুলি , সুতপা , নীলা ওদের কথা মনে হচ্ছে। স্কুলে সরস্বতী পুজোর সময় সেই সময়ের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে স্কুল থেকে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করতো। বাড়িতে বলতো রঞ্জনা থাকবে সাথে। কারণ রঞ্জনা প্রেম করতে পারেনা। ইংরেজিতে অংকে ভালো নম্বর পেলেও প্রেমে শুন্য। কারণ সে ওদের মত ফর্সা নয়। রঞ্জনা ওদের মায়েদের কাছে ভালো মেয়ে। নীলার মা , কাকিমা বলতেন -” কি মিষ্টি মুখ ,গায়ের রংটা মায়ের যদি পেতিস, তবে আর দেখতে হতোনা। রাজপুত্তর বাঁধা ” নীলা , সুতপা, তুলি ওরা বাসন্তী পুজোতে হলুদ শাড়িতে সেজে আসতো। রঞ্জনার এক মুখ হলুদ মাখা হয়ে সাদা -লাল পেড়ে শাড়ি। রঞ্জনার মনে পরে সেই মুখ চাপা হাসি যখন ছেলেরা পুজো প্যান্ডেলের মোড়ে দাঁড়িয়ে গাইতো, শিস দিতো। রোদের জন্য ছাতা খুললে তুলি বলতো -” বাবা ! ঐটুকু রোদ লাগলে কি হয় রে ? তুই কি কালো হয়ে যাবি ” বলে হি হি হাসি।
আজ সেই তুলি, সুতপা , নীলা তারাই কত বদলে গেছে। রঞ্জনার লেখা পোস্ট গুলিতে তারিফের বন্যা বইয়ে দেয়। মানুষ হয়তো বদলায়। তবু এতদিনের ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম থেকে মেলা প্রাঙ্গন সক্কলে একসাথে, তাই আবার সেই শামুক খোলোকটা বেরিয়ে আসছে বুঝি
সবসময় গায়ের রং নিয়ে একটা মনের আড়াল ছিল অস্বস্তিতে ঢাকা। বাজারে চলতি সবরকমের ত্বক উজ্জলের রকমারি জিনিস মা মাসের মুদিখানা তে লম্বা কাগজের ফর্দ তে লিখে নিত। মাসের হিসেবে বছর ঘোরে তবু মা এই অসম্ভব কে সম্ভব করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। মুদিখানার বাজার ব্যাগ হাতে মাঝে মাঝে মায়ের সাথে রঞ্জনা যেত মোড়ের মা লক্ষ্মী ভ্যারাইটিস স্টোরে। দোকানের ভানু কাকু রঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলতেন , ” বৌদি এ মাসে ভালো একটা ক্রিম এসেছে সাথে কাজল ফ্রি। খুব ভালো জিনিস। মামনি কে এবার এইটা দিয়ে দেখুন। মাসে মাসে রং হালকা হবে।”
কাজল রঞ্জনার অতি প্রিয়। সে জানতো কালো মুখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখেছে তার নিজের চোখ দুটির মায়া কালো মুখেও যা সুন্দর। কিন্তু দোকানের কাকুর সামনে ঠিক সেই সময়টা খুব কান্না পেয়ে যেত। মায়ের আড়ালে মনে হতো হারিয়ে যাই। মা তবু সেই কান্না মাখা মুখে শুধুই সরের প্রলেপ, হলুদ, আর যখন যা রান্নাঘরের ম্যাজিক জানা ছিল সব রঞ্জনার কালো মুখের আলো আনতে লাগিয়ে যেত। সব কিছু মা তার মুখে লাগিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতেন রঙের মধ্যে অন্তত জৌলুসটুকু যদি নিয়ে আসা যায়। রঞ্জনা বলতো -‘আহ ! লাগছে তো মা ! অত গাল, নাকে ক্রিম ঘষে জ্বালা করছে তো ‘ মা কি বারণ শোনে। নাহ ! মায়ের এতো চেষ্টা, তবু রঙে জৌলুস মা আনতে পারেনি।
জন্মের পর মায়ের কোল জুড়ে আলো করে আসার কথা ছিল , কিন্তু প্রদীপের কালিমাখা মুখ নিয়ে সে এসেছিলো। রঞ্জনার মায়ের মুখটি গোলপানা প্রতিমা আদলের কিন্তু রঙ তার দুধের সরে হলুদ দেওয়া। বাপের মুখ পেলে মেয়েরা নাকি ভাগ্যবতী হয়, তাই কাস্টম মেড ধারণা ছিল বাবার চেহারা মায়ের রঙ। কিন্তু মানুষের সৃষ্টি তো রঙের সাথে রং মিলিয়ে মন পছন্দ হয়না। তাই দুধে কেশর দিয়ে মা খেতেন রঞ্জনা জন্মানোর আগে তবু ফল আশানুরূপ হলোনা। মায়ের প্রতিমার মত মুখ, বাবার রং। ব্যাস ! সেই থেকে শুরু মায়ের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা।
মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার সেও তো গাঢ় রঙের। মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার, হোয়াইট ম্যাটার সেখানেও হালকা গাঢ় রং এর খেলা। রঞ্জনার সেই গাঢ় ইন্টালেক্ট পার্ট খুব ভালো হলেও , সে দ্বন্ধে থাকতো তার হৃদয়ের সাথে। গাঢ় লাল হৃদয়ের ধুকপুকুনিতে একটা দ্বিধা , হীনমন্যতা এসেছিলো। যা গ্রে ম্যাটার কাটিয়ে ওঠেনি। স্কুলে ,পাড়ার নাটক মঞ্চে সবখানে সেই ইন্টালেক্ট পর্দার আড়ালে থেকেছে। পড়াশুনার সাথে তার কলমের সৃষ্টি শীলতা সেই হীনমন্যতা কাটিয়ে ওঠেনি।
কলেজের দিনগুলি মনে পড়ে। মিষ্টি গলা ,কাজল গভীর চোখ , বুদ্ধির শানিত উজ্জ্বলতা কোথায় যেন লুকিয়ে পড়তো লোকের ভিড়ে। ধূসর ,বাদামি, জংলা রঙের জামার রঙে শামুকের মত লুকিয়ে যেত। একদিন উজ্জ্বল এলো।

ভিড় ট্রেনে রোজ কলেজ ফেরত স্টেশনে একই সময় উজ্জ্বল নামতো। কিভাবে যেন দুজনের সময় মিলে যেত। দুটো কলেজ দুই প্রান্তে , সময় রাস্তা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেমন ভাবে মিলে যেত। উজ্জ্বলের চোখে দেখেছিলো রঞ্জনা একটা নরম আলো যা তার জৌলুস হীন মুখে এসে পড়তো। তবু ছেলেবেলা থেকে রং মেজে ঘষে রঞ্জনার মনে একটা হীনমন্যতার পুরু পলেস্তারা লেগেছিলো , যেটা বয়েসের সন্ধিক্ষণে এসে রঞ্জনাকে সাপের মতো আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে রেখেছিলো। এই বেষ্টনী দমবন্ধ করে দিলেও এর থেকে তার মুক্তি ছিলোনা। তাই বাছাই করে নিজেই ওই অনুজ্জ্বল বাদামি, ধূসর , জংলা সবুজ রং খুঁজে নিতো। নিজেকে আরো লুকিয়ে নিতে সংকোচ দ্বিধার খোলস আবৃত হয়ে থাকতো। উজ্জ্বলের চাহনিতে শুধু সেই সংকোচ বোধ হতোনা।

আজও মনে আছে , গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ করা দুপুর রাস্তায় সেদিন বাড়ি ফেরার পথে পিছন থেকে উজ্জ্বল ‘শুনছেন’ বলে ডেকেছিল। দম বন্ধ করে হাঁটার গতি রঞ্জনা থামিয়ে দাঁড়ালো। উজ্জ্বল সরাসরি বলেছিলো তার ভালোবাসার কথা। রঞ্জনা জেনেছিলো , কলেজের ডিবেট অনুষ্ঠানেই উজ্জ্বল তাকে দেখেছিলো।
আর কেউ বলেনি কিন্তু উজ্জ্বল বলেছিলো- ” আপনার সেদিন ডিবেটের তর্কে আমি সহমত না হলেও অনেকগুলো যুক্তি কাটতে পারিনি। যদি এদিক ওদিকের কথা না বলে আপনাকে বলি আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাহলে কি খুব বিরক্তি আসবে ?”
রঞ্জনা একটু থতমত খেলো মা যদি এখন এইখানে থাকতো তাহলে তার আড়ালে সেই ছোট্টবেলার মত লুকিয়ে পরতো। একটু সামলে বললো – “বাহ্ ! একেবারে ভালোবেসে ফেলেছেন ? এতো সহজ ভালোবাসা? ”
উজ্জ্বল একটু হালকা হাসিমাখা মুখে বললো -“আমার মনে হলো তুমি সোজা কথা সহজ ভাবে বলা পছন্দ করো তাই সরাসরি বললাম। প্রথমে ভালোবেসেছি ? নাহ ! ঠিক তা নয়। তোমার বক্তব্য তোমার ভাবনা গুলোকে সেদিন মন দিয়ে শুনেছি। তারপর ভেবেছি , না চাইতেও তোমার গলা, তোমার কথা কানের মধ্যে অদ্ভুত ভাবে বাজছিলো। এমন আগে হয়নি। ওই ডিবেটের মঞ্চে ওঠা মেয়েটাকে তারপর খোলাচোখে ভিড়ের মধ্যে বারবার দেখেছি। তাই সোজা কথাটা বললাম।”আজ চলি। তুমি চাইলে দেখা হবে। আমি ওই ৮;৪৭ মিনিটের লোকালেই থাকবো। দ্বিতীয় কামরা। “
এমন একটা জড়োসড়ো হয়ে কোনায় চুপটি করে বসে থাকা মেয়েটি যখন কথা বলছিলো , পাল্টা তর্কের প্রতিউত্তর করছিলো, উজ্জ্বল সব পয়েন্ট গুলি মন দিয়ে শুনেছিলো সেদিন । কিন্তু সেই মেয়েটি পরে গ্রুপের সবার মধ্যে এমন করে খোলসে ঢুকে পড়েছিল, অনেক কষ্টে তার যোগাযোগ বন্ধুর সাহায্যে পেয়েছে। এক মাস ধরে নিজের বাড়ির উল্টো পথে এক ঘন্টার ট্রেন সফর শুধু মাত্র রঞ্জনার জন্য।
তারপর কেটে গেছে বেশ কটি গ্রীষ্ম, বর্ষা , বসন্ত। রঞ্জনার ঘামে ভেজা মুখ থেকে কতদিন আলতো করে মুখে পড়া চুল সরিয়ে তার জৌলুসহীন মুখে উষ্ম ছোঁয়া দিয়েছে উজ্জ্বল। অনেক শ্যাওলা জমা পাথর সরিয়ে রঞ্জনার মন কে সে ভালোবাসার উষ্ম ছোঁয়া আর ভরসার হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
আত্মবিশ্বাসের সেই উজ্জ্বলতা রঞ্জনার মুখে চোখে আজ ধরা পরে ওই মানুষটার জন্যে।
বন্ধুত্ব নিজের খেয়ালে এসেছিলো, দুটি হৃদয়ের মধ্যে সেতু গড়েছিল। অনুজ্জ্বল মুখের গভীর চোখের ভালোবাসায় উজ্জ্বল নিজেকে ভরিয়ে নিয়েছিল। প্রেম এসেছিলো বসন্তের মত পলাশের রং কি হৃদয়ের রঙ ? উজ্জ্বলের নামটাই অদ্ভুত। যেন এক মায়াবী দীপ্তি রঞ্জনার জীবনে এনেছিল। ওই কালো মুখের রঙে যেন বসন্তের লাল হলুদ আবির রঙ মাখিয়ে দিয়েছিলো ওই মানুষটা। ঘামে ভেজা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দাম্পত্যের ভালো করে থাকার লড়াই দুজনে হাত ধরে , কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আজ মধ্য জীবনের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে।
ছোট্ট লাল নীল সংসার তাদের। আজকাল বরং উজ্জ্বল এসে বলে- ‘ রঞ্জু , এই দেখো দাড়ি কেটে কিসব বিজিবিজি হয়েছে গালে। তোমার মায়ের কিছু টোটকা প্লিজ ঝাঁপি থেকে বের করোনা “- ‘আবার শুরু করলে’ এই বলে রঞ্জনা তেড়ে আসে। “ইশ ! বুড়ো বয়েসে খুব না ”
উজ্জ্বল – ” আহা ! চটে যাচ্ছ কেন ? কথাতেই বলে ত্বকের যত্ন নিন , মেক-কাপ ফ্যাশন কি শুধু তোমাদের। বয়েস হলে তাই আরো বেশি করে যত্ন নিচ্ছি এই আর কি ” বলে এক চোট হাসি।
রঞ্জনা হেসে বলে – ” পাগল একটা ”
গ্রুপ থেকে আবার রিমাইন্ডার মেসেজ ” হাই ফ্রেন্ডস ! ড্রেস কোড মনে আছে তো অল বিউটিস “

আবার সেই স্কুল বন্ধু , চাপা হাসি , মজার ছলে মজা করা সব মনে পরে গেলো রঞ্জনার। একবার ভাবলো মেলাতে যাবেনা। খেয়াল নেই বেশ খানিক্ষন পুরোনো সাদা কালো সিনেমার মতো জীবনের ছবি দেখছিলো সে। উজ্জ্বল পিছন থেকে এসে ঘাড়ের কাছে মুখ রাখলো। সেই উজ্জ্বল চোখে এখন একটু ভারী ফ্রেমের চশমা , চুলের সাথে গোঁফটাতেও পাক ধরেছে।
উজ্জ্বল বললো -” এই বয়েসেও এই বুড়োকেই শাড়ী পছন্দ করে দিতে হবে , নাহ ! কনফিডেন্সটা গ্রুমিং করতে করতে ২০ বছর কেটে গেলো।”

রঞ্জনা আলমারির একদিকের পাল্লাটা বন্ধ করে বললো- ‘”মোটেও না ! সব পুরোনো চেনা মানুষ একসাথে আবার সামনাসামনি তাই একটু …..”
উজ্জ্বল আড়াল করা হাত বের করে একটা প্যাকেট খুললো , বেগুনি রঙের উপর হলুদ ফুলের নকশা কাটা জামদানি শাড়ী। বললো –” পরশু এটা পড়বে ‘ আর রঞ্জনার হাত থেকে ওই ধূসর রঙের শাড়ীতে মেটে রঙের পাড় বসানো সেটা নিয়ে গোল পাকিয়ে আলমারির ভিতর কোণে ফেলে দিলো।

রঞ্জনা সেই আগের মতো ওর হাতটা শক্ত করে ধরে কিছু বলতে যাচ্ছিলো , উজ্জ্বল রঞ্জনার মুখটা দুহাতে নিয়ে সেই পুরোনো উষ্ম চুম্বন দিলো।
আত্মবিশ্বাসের বেগুনি আলিঙ্গন গায়ে জড়িয়ে একটা গাঢ় হলুদে লাল ফুলের নকশা তোলা ব্লাউসে সেজে কানের পাশে হলুদ ফুলের ক্লিপ লাগিয়ে সেজে নিলো মেলাতে রিইউনিয়নের জন্য রঞ্জনা।
একটিবারের জন্য সেই মায়ের জৌলুশ আনার টোটকা , বন্ধুদের চাপা হাসি সেই পুরোনো খোলস টাকে বের করেছিল। কিন্তু আবার উজ্জ্বল এসে সেটা গোল পাকিয়ে আলমারির অন্ধকার কোনায় ছুঁড়ে সরিয়ে দিলো।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।