T3 || নারী দিবস || সংখ্যায় দীপশিখা দে

নারী দিবস একটি বিশেষ দিন , সেটিকে আলাদা ভাবে শুভেচ্ছা জানানোর প্রয়োজন আছে কিনা ভাবার আগে ভেবে দেখলাম যেদিন মেয়েরা, মেয়েদের পাশে থাকবে , সহমর্মিতা , সাহস , ভালোবাসা নিয়ে। তাঁরা একসাথে চলতে শিখবে জীবন পথে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সহ যোদ্ধার মত সেদিন হবে নারী দিবসের প্রকৃত উদযাপন। । যেদিন বিয়ের পর মা বলবে তার কন্যা কে , ‘শাশুড়িকে একটু বেশি যত্ন দিস শ্বশুর মশাইয়ের মন পাওয়ার চেষ্টা ছেড়ে’, যেদিন নিজের মেয়ের জন্যে রাখা রুটি মাটিতে পড়ে গেলে, মা সেটি তুলে নিয়ে কাজের মেয়েটির থালায় তুলে দেবে না, যেদিন মা বলবে বন্ধুদের সাথে যাচ্ছ বিপদ দেখে না পালিয়ে সবাই একসাথে হয়ে মুকাবিলা করবে , যেদিন কেউ গায়ে হাত দিলে মা শিখিয়ে দেবে নখ বার করতে, যেদিন গায়ের রঙ শরীরের আকার নিয়ে মেয়েরা মেয়েদের তামাশা করবে না, যেদিন টাকা রোজগার দিয়ে একে অপরকে মাপবেনা। যেদিন মেয়েরা প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে নিজের আশে পাশের মেয়েদের পাশে দাঁড়াবে সেদিন হবে নারী দিবস।
নারী পুরুষের সামাজিক বিভাজন যদি কখন লুপ্ত হয় ,আর সাম্যের, ভালোবাসার এবং সহমর্মিতা বোধ নারী পুরুষের সম্পর্কের বাঁধুনি আঁটতে পারে সেদিন সেই সমাজ কে এগিয়ে যেতে রুখতে পারে এমন শক্তি থাকবে না। একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলে , জন্ম নেয় একটি মা। নারীর এটি হার্ডওয়্যার সিস্টেম। সে ভবিষ্যতে সন্তানের জন্ম না দিলেও মাতৃ সত্তা মনের গভীরে লুকিয়ে থাকে। তাকে সযত্নে লালন করলে একদিন ফুল ফুটবেই সমাজের অন্ধকার অসাম্যের জমিতে।
মান এবং হুঁশ দুইয়ে মিলে মানুষের সৃষ্টি। শুধুমাত্র নিজেকে পুরুষ শাসিত সমাজে পরিচিত করতে নয় ,তাদের কে বুঝিয়ে দিতে যে সৃষ্টির লগ্নে দুইয়ে মিলে যখন জগৎ সৃষ্টি করেছি , সমাজ সেও দুইয়ে মিলে গড়বো। তখন নারী দিবস নয় আমরা প্রকৃত মানব দিবস উদযাপন করবো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।