ক্যাফে গল্পে দেবারতি চন্দ রায়

দেখতে দেখতে দুটো বছর

এখনো জানা হয়ে উঠল না ঠিক কি চায় তাদের মন। কি কারণে হয়েছিল তাদের এই বিচ্ছেদ! কত প্রেম ছিল দু’জনের মধ্যে। একটু আধটু পছন্দের অমিলতো সব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই থাকে। তা সত্ত্বেও কত সুখে সংসার করে লোকে।
তাদের মধ্যেওতো ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব কোনোটাই কম ছিলো না সেদিন। তবে কি একে অপরের প্রতি অতিরিক্ত অধিকার বোধই ছিল কারণ দমবন্ধ লাগার? শ্বাসরোধ করেছিল সম্পর্কের জীবন ?
দশ বছরের প্রেমের সম্পর্ক দশ মাসও টিকিয়ে রাখতে পারলোনা ওরা কেউ দম্পতি হিসেবে। প্রথমে বিচ্ছেদ তারপর কাজের বাহানায় বেছে নিলো দুটি ভিন্ন জীবন। কথাটা মনে হতেই মনটা কেমন উদাস হয়ে গেল মধুর। অথচ একটা টান তো দু’জনে আজও অনুভব করে। তাই তো এতদিন পর দেশে ফিরে প্রথমেই দেখা করতে চাইল মাধব তার প্রাক্তন স্ত্রী মধুর সাথে। আর তা জানতে পাওয়া মাত্র, পাওনা ছুটিছাটার পরোয়া না করেই মধুও একপ্রকার জোর করেই চলে এলো মাধবের সাথে দেখা করতে। শহর থেকে দূরে এই নিরিবিলি পরিবেশে সেই পুরোনো কফিসপে, যেখানে প্রায়ই চলে আসত ওরা সুযোগ পেলেই দেখা করতে। কত কথা বলতো ওরা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে। কত রঙিন স্বপ্নের জাল বুনতো, একে অপরের দিকে তাকিয়ে। আজও কত স্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই জায়গাটা জুড়ে।
এখানেই হয়তো ভবিষ্যত, তাদের দুজনের সম্পর্কের সমাপ্তিও ঘোষণা করেছিলো তাদের অজান্তে। তাইতো এগিয়ে যেতে পারলনা ওরা একসাথে। রঙিন জীবনের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের মত সরিয়ে নিয়ে গেল দু’জনকে দু’জনের কাছ থেকে এতটা দূরে!
দেখতে দেখতে আজ দুবছর পেরিয়ে গেলো। দেখা করার জন্য এতটা পথ পেরিয়ে এসে, মুখোমুখি বসেও দুজনেই চুপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। শুধু কথা বলে যাচ্ছে দুজনের চোখ।
একাকীত্ব কি এই দু’বছরে তাড়িয়ে বেরিয়েছে দুজনকেই সমানভাবে ? আবার একসাথে থাকার টান অনুভব করেছে কি দুজনে একইভাবে? মধু মাধবের নিরবতার মাঝে একই প্রশ্ন চোখে ! তাই হয়তো হঠাৎ নিঃশব্দ ভেঙে দুজনেই একসাথে বলে উঠলো ” আবার একসাথে থাকি..এবার শুধু স্বপ্ন দেখি সুখী সংসারের একসাথে এক ছাদের তলায় সব কিছু ভুলে “।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।