কবিতায় ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী

পুজো এলেই
পুজো এলেই মনের ভেতর ঢ্যাম-কুড়াকুড়,
তোর সাথে তো দেখা হবে সকাল-দুপুর।
ঠাকুর দেখা… ওতো শুধু নামমাত্রই,
ওই ছলেতে তুই আর আমি ঠিক বেরোবোই।
সবাই জানে থাকবে সাথে বান্ধবীরা,
আমরা জানি তুই আর আমি মন-ফকিরা।
ব্রেকড্যান্স, আর ধূনুচী নাচ দেখবে কে রে…
আমরা তখন নির্জনেতে রকমফেরে।
মগ্ন তখন ফুচকা এবং এগরোলে,
প্যান্ডেলেতে ঢাকি তখন সুর তোলে।
কুড়কুড়াকুড়, ক্রাক, ঝিক আর ঢ্যাম-ঢ্যাম-ঢ্যাম…
সপ্তমীতে প্যান্ডেলেতে পুরোটা জ্যাম।
ও সামলায় কাকে, আর সে সামলায় তাকে…
আমরা তখন খুনসুটিতে মত্ত সেই ফাঁকে।
অষ্টমীতে বাবা-মাকে রাখতেই হয়,
পাছে জেনে ফেলে আবার সেইখানে ভয়।
আমার একাদশী, মুখে হরতকি….
অন্য কোথাও আপনমনে একাই বকি।
ইচ্ছে করে বাপ-মাকে দিই ঘুমের বড়ি,
ঘুম পাড়িয়ে, দুজনেতেই কেটে পড়ি।
অষ্টমীতে ওদের সাথেই ওঠাবসা,
আমার মুখে তখন ওদের ঝামা-ঘসা।
অষ্টমীটা যায় যে তখন খুব নেতিয়ে,
নবমীতে তোকে পাবার স্বপ্ন নিয়ে।
ঘুম আসেনা উত্তেজনায়, কখন যে ভোর…
নবমীতে নরম হাতের পরশ যে তোর।
সকালে কোনো প্যান্ডেলেতে হায়রে হায়,
বসে থাকি দু কোনেতে, দু-জনায় ।
পুষ্পাঞ্জলি কখন যে শেষ, নেই খবরে,
পুরোহিতও চেঁচায় আরো তারস্বরে,
তিথি যে শেষ, তাড়াতাড়ি, আর কে বাকি…
আমরা শুধু সাঁঝের অপেক্ষাতে থাকি।
নবমীতে হঠাৎ কেমন প্ল্যান পাল্টাস,
আমার বুকের ভেতর তখন কি দীর্ঘশ্বাস।
নবমীতে আমি যেন খুব পুরোনো,
সন্ধ্যেবেলা পোষাক পরিস চোখ জুড়োনো,
সঙ্গে দেখি অন্য সে এক মুসকিল- আসান…
দশমীতে ঠাকুর তো নয়, আমার ভাসান!