||নারীতে শুরু নারীতে শেষ|| বিশেষ সংখ্যায় দেব চক্রবর্তী

আমি ইরাবতী
আমি ইরাবতী
একবুক কান্না নিয়ে জন্মে দেখি
এ বিস্ময় জগৎ এক মহা বধ্যভূমি ।
দেখি, সমস্তরকমের ভীতি নিষেধের জালে আবদ্ধ এক নারীকে শুধু ‘রমন-ই’ হয়েই থাকতে হয় সারাজীবন।
বড় দাদুর কাছে শুনেছি-
নামী দামী পোশাক পরো, গয়না পরো , গৃহকাজে নিপুণা হও, প্রিয়দর্শিনী হয়ে থাকো- গার্গী হতে চেয়ো না।
স্কুলে ভর্তির সময় পিসেমশাই বললেন-অপালা খনারা যতই থাক; নারী জন্মে শিক্ষা নিষ্প্রয়োজন।
এ অনাসৃষ্টি ছাড়া আর কিছু নয়।
যুগের পর যুগ
এ সমাজ একটি মেয়ের উপর চাপিয়েছে নির্মম কঠোরতা।
অবলার ধুয়ো তুলে চালিয়েছে দুঃসহ নিপীড়ন
প্রতিবাদ হয় নি কোনও দিন ।
আমি ইরাবতী
আজ আমি সদর্পে ঘোষণা করছি-
শুধু উর্বশী হয়ে বাঁচতে নয়,
নারীর আপন ভাগ্য জয় করার সময় আসন্ন।
ছিঁড়ে ফেলো কাঁটাতারের বেড়া
চিনে নাও আপন অস্তিত্ব।
ভাগ্যিস বিদ্যাসাগর জন্মেছিলেন!
নইলে আর কোনও মৈত্রেয়ীর আবির্ভাব হতো কোনও দিন।
মেয়েরা থাকতো ‘মেয়ে’ হয়ে ।
জান্তব পৃথিবীতে
দুর্বলের ঠাঁই হতো আস্তাকুঁড়ে ।
ইতিহাসে পড়েছি
ভারত পথিক শিখিয়েছেন
কোরআন, বাইবেল, রামায়ণ, মহাভারত শুধু গৃহকোণে ভজনার জন্যে নয়-
নিজেকে চেনার জন্যে।
আজ বুঝেছি
যে মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন শত লাঞ্ছনা সহ্য করেও সযত্নে লালন করেছেন আমার ভ্রূণ-
একবারও কেউ কেন ভাবে নি তাঁর কথা।
ক্যানিংয়ের যে মেয়ে সবজি নিয়ে রওনা হয় রাজপথে
শুধু শিক্ষা নেই বলে যাঁকে শুনতে হয় দুস্তর গঞ্জনা- তাঁর কথা কেউ কেন বলে নি কোনও গ্রন্থে কোনও দিন!
আসানসোলের মা হারা যে শিশুটি একপেট খিদে নিয়ে শিখতে তার ভাষা-
কেন তাকে শেখানো হয় নি নিজেকে জানার মন্ত্র!
আমি ইরাবতী
সমস্ত দুর্গমতা পেরিয়ে আজ এসেছি তোমাদের কাছে ‘মানবী’ হয়ে তোমাদের মুখে ভাষা দিতে।
যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন মানবতার কথা
বিবেকানন্দ বলেছেন যৌবনের কথা
সুভাষ বোস বলেছেন জাতির কথা
যে ভাষায় আমি খুঁজে পাই
আমার শিক্ষা , আমার মাটি, আমার ইতিহাস।
আজ আগাম স্বপ্ন ছুঁয়ে দিতে এসেছি তোমার সপ্রাণ ভবিষ্যতে।
ভাগ করে নিতে চাই তোমার অনন্ত আশা এক যুগসন্ধিক্ষণে।
আমি ইরাবতী
আজ আমি নিজের থেকে প্লাবিত হতে চাই নব নব উত্থানের আহ্বানে।
অস্তিত্বকে যাচাই করে নিতে চাই অক্ষয় কষ্টিতে
বিনম্র ভালোবাসায়
পথের আলো হয়ে
আমার প্রতি প্রাতঃস্মরণে দীক্ষিত হয়ে থাক স্বোপার্জিত দৃপ্ত ঘোষণা॥
“আগুন জ্বালো……আগুন জ্বালো…..”