• Uncategorized
  • 0

T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || বিশেষ সংখ্যায় দেবযানী ভট্টাচার্য

আমি ও রবীন্দ্রনাথ

প্রথমেই ধৃষ্টতা মার্জনা করি ,তাঁর কর্মের ব্যাপ্তি নিয়ে আলোচনা বা পর্যালোচনা করার সাহস আমার নেই।তবু বিষয় যখন ,”আমি ও রবীন্দ্রনাথ ” তখন কিছু লিখতে ইচ্ছে করে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ স্বরূপ। মনে হয় এই কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার,চিত্রশিল্পী,নাট্যকার, ছোটগল্পকার,প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক যা সৃষ্টি করে গেছেন তা চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে।এখানেই তিনি হয়ে যান ব্যতিক্রমী।তাই আমার মননে, যাপনে খুব স্বাভাবিক ভাবেই স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এক আশ্রয়স্থল হয়ে বিরাজ করছেন অন্তরে এবং যাপনের মাঝে।প্রতি মুহূর্তে শিখে চলার এক বোধ জাগরণ করিয়ে চলেছেন।শিখছি প্রতি মুহূর্তে মানবিক নীতিবোধ দ্বারা কি করে নিজেদের সংশোধন করে যেতে হয়।
সুখ -দুঃখ,বিরহ-মিলনের মাঝে এক দার্শনিক নির্লিপ্ততা বজায় রাখার মানসিক শক্তি অর্জন করে চলেছি তাঁর জীবন দর্শন থেকে। সমস্ত সংকট থেকে উত্তরণের এক মহাশক্তি তাঁর যাপনে ছিল,সেও আত্মস্থ করার প্রেরণা পাই তাঁর জীবন দর্শন থেকে। সারাজীবন অন্তরে তিনি রোমান্স বহন করে চলেছেন, বস্তু থেকে জীব জগৎ বা নারী সকলের দিকেই তিনি এক রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ,অপার বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থেকেছেন, প্রেমকে কাজে লাগিয়েছেন সৃষ্টির সহায়ক হিসেবে।প্রেমের নির্যাস টুকু গ্ৰহণ করেছেন জীবনে, মানুষটিকে গিলে খান নি। চেতনায় এক নান্দনিক বোধ!!কল্পনার জগৎ টিকে রক্ষা করে চলেছেন অবিরত— এও তো শিখে নেবার এক প্রেরণা যোগায়, তাঁর জীবনই যেন এক মহাবিদ্যালয়, আমি এক ছাত্রী।
সর্বোপরি যা আমাকে আবিষ্ট করে রাখে তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু দর্শন।যা এই মুহূর্তে যেন আবারো আমি কেন সকলের কাছেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।শোক থেকে উত্তরণের এক শক্তি যেন তাঁর জীবন দর্শন। প্রায় 40 টি মৃত্যু তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে শোকাচ্ছন্ন করেছে তিনি সাময়িক শোকবিহলব হয়েছেন ,কিন্তু কোনো মৃত্যুই তাঁর জীবনকে ঢেকে ফেলেনি বা কর্মকে, সৃষ্টির ধারা কে স্তব্ধ করে দেয় নি। অব্যাহত রয়ে গেছে সৃষ্টি, শোককে এক অপরূপ শক্তিতে পরিণত করে কর্ম যজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।কবির ভাবনায়,’জীবনকে সত্য বলে জানতে গেলে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তার পরিচয় পেতে হবে’।মৃত্যুর সত্যতাকে অস্বীকার করেন নি তিনি।সুখের মতো দুঃখকে বা জীবনের মতো মৃত্যুকেও সমান ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন জীবনের মাঝে।যে একবার আত্মস্থ করতে পেরেছেন এই দর্শন তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছেন জীবন দেবতা।জীবনের সমস্ত অনুভূতির প্রকাশে তাঁর লেখা গান বা কবিতার কাছে ঋণী থাকে এই জীবন!! তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া যে গতি নেই কিছু!! তিনি যে আমার বোধের ঘরে ,মর্মমূলে গেঁথে গেছেন। জীবন চর্চায় হয়ে উঠেছেন পথ প্রদর্শক।শব্দ বা সময়ের সীমাবদ্ধতায় আমার রবীন্দ্রনাথ কে বাঁধা যায় না। বারবার এই জীবন গেয়ে ওঠে গান ,
” আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ- দহন লাগে-
তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে।”
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।