কবিতায় ডরোথী দাশ বিশ্বাস

তবু আজও সে কবি

সে আজকাল নিজেকে সদা সত্যবাদী বলে
সৎ হিসেবে নিজেকে জাহির করে
সে সুযোগ পেলেই বুদ্ধির বড়াই করে
সে সদাই জ্ঞানের অহঙ্কার করে
সে নামযশের নিমিত্ত অন্যের উপকারে লিপ্ত হয়—
তাকে আলাদা করে মনে রাখার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

আদতে তার ডানা ভাঙা
চাইলেই পাখি হয়ে আকাশে
উড়ে যেতে পারে না…
মুক্তি মেলেনা তার
আলোকের সন্ধানে ঘুরে ঘুরে
অবশেষে আঁধারকে বরণ করে নেয়
সূর্যের সন্ধানে সূর্যমুখী ফুল হয়ে
ফোটার ক্ষমতাও নেই
লেবুবনের বাতাস তার চাই রোজ
কিভাবে সৌরভ ছড়াতে হয়
তবু আজও তা শিখে ওঠা হলোনা

অথচ আজও নিয়ম করে একমুঠো রোদ খেলে যায়
তার খোলা জানালার গরাদে,
লুটোপুটি খায় মেঝেতে,
গড়াগড়ি দেয় বিছানায়
এক বুকভরা বাতাস খেলে যায়,
একফালি আকাশ এসে ধরা দেয় দু’চোখে
সে দেখে খররৌদ্রতাপ ডেকে আনে শ্রাবণের ধারাকে
ঘাসফুল মরে যায়
বিরামহীন বৃষ্টির আঘাতে…

তার চারপাশের বৃত্তটা আর প্রসারিত হয়না
জ্যোৎস্নার মধুর আলোয়
আজ সে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে।

নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিলো এক আড্ডাঘর
সংসারের হালহকিকত থেকে রাজনীতির কড়চা
সেখানে সব আলোচনা চলতো।
বয়স বাড়ছে
সকলেরই সংসারে সমস্যা বাড়ছে
আড্ডাঘরে সদস্যবৃত্ত ক্রমশঃ ছোট হতে হতে
আজ সে একা।
তবু সে বিকেলে পথভুলে নদীর পাড়ে এসে ওঠে।
পা ডুবিয়ে
জ্ঞান আহরণের নামে অ্যাণ্ড্রয়েড ফোনে
ইউটিউবে চোখ রেখে একলা বসে…
সন্ধ্যা ঘনালে চাঁদের ছায়ায়
গৃহাভিমুখে সংসারী মন পথ চলে

চাঁদের আলো নদীর কলধ্বনি
তাকে আর কবিতা লেখার শব্দ যোগায় না

তবু হঠাৎ হঠাৎ তার মৃত কবিসত্তার
পালে লাগে হাওয়া
কবিত্ব জেগে ওঠে!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।