|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় দেবযানী ভট্টাচার্য

“করুণাময়ী কে বলে তোরে দয়াময়ী—“
দেবী দুর্গা যদি মাতৃরূপের আধার হন, শ্যামা মা রনংদেহী কালিকা, চামুন্ডা,শক্তিরূপের আধার।তিনিই আমাদের ইচ্ছাময়ী, স্বৈরাচারী, অত্যাচারী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নারী।তিনি শক্তির আধার, লিঙ্গ নির্বিশেষে তাঁর ভক্তরা তাকে উপাসনা করে আসছেন নিজেদের ক্ষমতাকে ঐশ্বরিক করে তুলতে। তিনি প্রতিবাদ স্বরূপ এক ‘Super woman।’
নারীর বর্ণ নিয়ে সমাজে যে একচোখামি আছে তার প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি যেন এক অহংকারী নারী। এই শক্তিময়ী ভয়ঙ্করী নারী প্রয়োজনে নগ্নিকা,তার ক্রোধের কবলে পড়ার ভয়ে নতজানু হয়ে কতো ডাকাত সর্দার ভক্তি প্রদর্শন করে চলেছে যুগ যুগান্তর ধরে।তিনি যেন সমাজে নারীর অশ্রদ্ধা,অবলা রূপটি মুছিয়ে আদায় করে নেন সম্ভ্রম ,শ্রদ্ধা।ঘুটঘুটে অন্ধকার অমানিশার রাতে তিনি শক্তিদায়িনী হয়ে উপস্থিত হন ভক্তের আহ্বানে।এক নারীর এ হেন সাহসিকতার কাছে নতমস্তক হতে পিছুপা হয় না আজও আপামর মনুষ্য সমাজ।
তিনি আধুনিকা, সাহসিনী এক নারী,তিনি নিজের সাথে ডাকিনি,যোগিনী নিয়ে শ্মশান সংলগ্ন স্থানে নির্ভয়ে অবস্থান করেন, নরমুন্ড গলায় ঝুলিয়ে অবলীলায় বুঝিয়ে দেন শাস্তি কী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে! আবার স্বামী ভক্তিটিও নারী হিসেবে প্রশংসনীয়, তিনিই সৃষ্টি স্থিতিবিনাশকারিণী। আবার পুরুষের বেড়া বাঁধার কাজে সহায়ক হয়ে বুঝিয়ে দেন লিঙ্গবৈষম্য ভেদে নারীকে দূরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়, আমার কাছে তিনিই বিশ্বাসে যুক্তিতে ‘Supar woman’। যাঁর পদতলে নতজানু হয় এ হৃদয়।তাঁর করুণা প্রাপ্তির আশায় সাধক রামপ্রসাদ যেমন গান বেঁধেছেন এককালে সাধারণ মানুষও তেমনি আজও তাঁর করুণা প্রাপ্তির আশায় পূজিত করেন তাঁকে।