গুচ্ছ কবিতায় চিরঞ্জীব হালদার

১| মিত্র

মূলতঃ আমার শত্রু কোন মানুষ নয়।
রচনা লিখতে গিয়ে য়ে শব্দটাকে একেবারেই পচ্ছন্দ করছিনা সে টনটন রক্তাল্প বাতাস বয়ে আনছে।
আপনি নির্ঘাত চোখে সর্ষেফুল দেখবেন যদি অনির্দিষ্ট ঘটনা গুলো দু’চারটে খুন-খারাবি হাজির করলে হারিয়ে ফেলবেন নিজস্ব ডাইরিতে লেখা ফোন নম্বর।
হয়তো সেই ফোন নাম্বার গুলো নিজেদের জায়গা বদল করে শত্রুপক্ষের শিবিরে দুপেগ ভদকার লোভে
অপরা হিমোগ্লোবিন বাহক।
স্পষ্টত যে বাঁদরটাকে আপনি কখনো আমাল দেননি সে জোরে জোরে বড় রাস্তায় আপনার ধনাত্মক কাজের ফিরিস্তি গুলো শত্রু পক্ষের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছে।
প্রকৃত হারামজাদারা আপনার গুনগান শুরু করতে থাকলে বুঝবেন রেফারীর অফসাউডের গোলকেও
মান্যতা দিয়ে দেবে।
ঘরের বাসন-কোসনেরা যে ভাষায় কথা বলে
তা প্রাকৃত না দ্রবিড় এটা বুঝে ওঠার আগে দেখবেন
ক্যালেন্ডার এর পিছনে টুকে রাখা গুপ্ত হিসেবেরা
কোন নোম্যন্সল্যান্ডে দাঁড়িয়ে কীর্তন শুরু করেছে।
কালি ফুরিয়ে যাওয়া কলম আর কুৎসিত নোটবুক যার একটা সাদা পৃষ্ঠাও অবশিষ্ট নেই তাকে শেষচুল্লির ঘাতক বানানোর বিদ্যা রপ্ত করছি।
সদ্য লেখা কবিতা উপর খতরনাক লিপস্টিক যেন হেলিকাপ্টার থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রেমিকার কীটনাশক।
মূলতঃ অজাতশত্রুই আমার ঘাতক ।

২| না কবিতা

সমস্ত ফলিত অক্ষর সমূহকে যদি এক বদ্ধ ঘরে
কয়েদ করে রাখা যেতো।
যদি সব বদমেজাজী সকালকে
পরচুলা পরিয়ে ভাঁড়ের চরিত্রের অভিনয়ে
প্রলুব্ধ করা যেতো।
নাপন্ডিত তার কল্পনার দোয়াত কে
সোনার শিকলে বদ্ধ করে
নববধূর সাথে পাঁচ কড়ি খেলতে খেলতে
শুকতারা চেনায়।
লুডোঘরকে আর একটু শিক্ষিত আর অমার্জিত করার প্ররোচনার দিকে নজর দেবো ভাবতে ভাবতে টের পাই জামার বোতাম গুলো এই বুঝি বিদ্রোহ শুরু করবে।
তারা নাকি প্রায়ই নিরানব্বই এ ঘরে আটকে পড়ে।
পাঠক উপরের সব মন্তব্যই
অসমাদৃত কবিতার যোগফল।

৩| বোকা

আমি মুখ্যু-সুখ্যু স্মৃতি বোকা মানুষ।
আমার দড়িপ্যান্টে প্রাচীন কার্তিকের আকাশ প্রদীপ
হেসে ওঠে।
দৌড়াতে দৌড়াতে ঘোড়দৌড়ের মাঠে।
ডালিয়া দের চন্দ্রমল্লিকার বাগান পেরিয়ে সিধে অন্নদাশঙ্করের বৈঠকখানায়।
ঢুলুনি আমার স্বভাব।
চুনি মাস্টারের বেত চুরি করা আমার স্বভাব।
রুনু দিদিমনির অপ্সরা পেন্সিল
তর্জনী আর মধ্যমায় মেঘ ডেকে আনে।
শূন্যের নামতা অনেককাল আওড়ানো হয় না।
তোমাদের সূর্যমূখী ক্ষেতে ঢুকতে না দিলে
স্মৃতি সঙ্গ দেবেনা।
ভ্যান গগ এখন কী করনীয় আপনি বলুন।

৪| ক্লোন

আজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেকেছিলেন।
ক্লোনকে বলেছি দেখো বাপু
মন্ত্রী বলে কথা
যেতে তো হবেই।
যেতে যেতে চাঁদের সঙ্গে দেখা।
তার গায়ে কোন জ্যোৎস্না গন্ধ না পেয়ে
আমার ক্লোনকে বলি
এটা চাঁদের কাঁথা নাবোনা বুড়ির কোন নকল নাতি।
যাই হোক মন্ত্রীর আপ্ত সহকারী সুধোলেন
আমি কোন গোলাপ বাগানের মালিক কিনা।
তার পরচা আর খোতেন এখন তাদের জিম্মায়।
ডিএন এ টেষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি অন্তরীন থাকবো।
প্লীজ কাল থেকে আপনারা
ক্লোন চিরঞ্জীব লিখিত ভুলভাল কবিতা গুলো শেয়ার না করলে বিলক্ষন বাধিত থাকিবো।

৫| ফজলি সুরমা ও ইব্রাহিম

আম গাছে জল দেন ।
পশ্চিম সাধনা শেষ করে তিনি দর্পণে বসবেন।
গান্ধর্বী সংবেদন গুলো পায়ে পায়ে নেওতা বিড়াল।
গায়িত্রীদেবীর কাছে তিনি ধার্মিকের ধার্মিক।
আমপাতা তুমি জানো তাহাদের ইষ্টকথন।
ইব্রাহিম তোমার লাবণ্য কিছু পেতে কি পারিনা
আমরা তনয়সুপারি।

৬| সম্পর্ক

দরদী অন্ধকার কাকে বলে মহাশয়া।
পরিত্যক্ত গিটার আর বাল্যকাল।
উভয়ের মধ্যে ছিপছিপে ঋতু ও শ্রমনা নামের কোন
ভুল হেলিকাপ্টার এর ফিসফাসে
ভরে থাকে খিড়কি সদর।
মহালয়া এযাবৎ আপনি যতগুলো
অন্ধকার উপহার পেয়েছেন
তারা কি রক্ষনশীল গতির কাছে
টিপছাপ নিলাম করেছে।
জানা ছিলনা মহাশয়া আপনি অন্ধকারের
দারুন বান্ধবী।

৭| ভ্রামনিক

আমি যাচ্ছি ।
তো দেয়ালটা ও আমার সঙ্গে সঙ্গে।
তার গায়ে একঢাল আলোর স্বপ্ন।
তার গায়ে হিজিবিজি নিকষ অন্ধকার।
ডাকে।
এই নির্বান্ধব রাস্তায়
এক অন্ধকার আর এক অন্ধকারকে
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।

৮| ভ্রমন

যে বাড়িতে আর কখনও থাকা হবে না।
যে বাড়ির প্রতিটি ইট এক একটি জানালার ভূমিকা পালন করে।
টহলদারী আকাশের তিস্তা প্রদেশে
কয়েকখন্ড মেঘ লুডো খেলার জন্য
জামরুল ফুলের পানিপ্রার্থী।
যে বন্ধু তার পিসেমশাই নিরুদ্দেশের ময়ূর খুঁজতে যাবার আগে তার ফিঁয়াসের গহনা বক্স
আমাকে দিয়ে যাবেন।
যে বাড়ির বাতিকগ্ৰস্ত মালকিন
আমি ঘুমিয়ে পড়লে অলৌকিক মশারি টাঙিয়ে দিতেন।
কমলদে সিকদার বলেছিলেন এমন সব ঠিকানা যোগাড় করে
নগরভ্রমণে যাবো।
আমি অপেক্ষা করছি সদা বিবাহিত আনন্দের জন্য।

৯| শব্দ

শব্দ না শব্দ।
একজন অধিপতি।
অন্যজনা
অনুচ্চারিত রাগিনী।
ঘেউ
কোন শব্দ নয়।
ফোঁস
হিমপ্রবাহে ভাসমান গৃহি।
আমাদের রোববার।
মরুৎ বান্ধব কথা দিয়েও
শব্দহীন।
তারজন্য
হরেক পাখির আর্তনাদ
খুঁজতে বেরিয়েছে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।