কবিতা গুচ্ছে চিরঞ্জীব হালদার

১| নিদ্রা

একজন ধর্মযাজক যখন গোসল করতে ঢুকবেন।
দক্ষ বাইসাইকেল চোরকে বলা হবে
চুরি ও রগড় মধ্যবর্তী ফাঁক পুরনের জন্য
তার ক’জন সহকারী দরকার।
আমআদা আর সূর্যমুখীর কোন ভূমিকা থাকবে কিনা।
প্রবাহিত জলে যে অপদেবতার বসত তার নৈঋতে
এক খিলান ক্ষেত্রে ভ্যান গগের পাতানো দাদা
পর পর রং সাজিয়ে বসে থাকেন দিবারাত্র।
পাদ্রী আর ভ্যান এর মাঝখানে যে নোম্যানস ল্যান্ড
সেখানে এক পতিতা নাসাগর্জন পূর্বক নিদ্রাকাতর।
শেষ বিকেলের সিলুয়েটে এরা সবাই স্থির চিত্রের মত
তার নিদ্রাপাহারাদার।
বহুদূর থেকে আমি তার জন্য ঘুঘনি ব্যবসায়ীর
পাঠানো রুমাল ।
আমাকে মার্জনা করবেন আমি এর বেশী
অবর্ণনীয় সত্যের কিছুই জানিনা।

২| চিঠি

চিঠি লিখেছেন মেসকালিন।
তার এক বন্ধু দরকার।
তার এক শত্রু দরকার।
হিজিবিজি হরফে লেখা চিঠি
জলের নিচে কোন কবুতরের মৃত বকম বকম
তার ছায়া স্পষ্ট হাড়ে গেথে যায়।
দেখতে চায় প্রেতের ফসিল থেকে কোন লুনাটিক
সরোবর নাম ধরে ডাকে।
নিশিডাক জোটে ক’জনের।
মৃতের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনা ভাতের সংসার
চাই ঝগড়াটে কামফলের অলিক বারান্দা।
পাখিরা অনাথ হলে বিকলাঙ্গ ছায়া
কাকে বেশী ভালবাসে বলো মেসকালিন।
অহরহ আখর চায় ডুবন্ত তরণী।

৩| জাড্য

জাড্য কে নিয়ে সময় করে বসা দরকার।
প্রথমে তাকে এবড়ো খেবড়ো বা চৌকোনা করে কেটে আপনার অনাথ বিছানার পাশে রেখে
জল শোধন করে শোক আর ক্ষুধার মাঝ বরাবর
কোন পোশাক ব্যবসায়ীর প্রযত্নে রেখে নিজের কাজে
নিবিষ্ট হবেন।
ঠিক সাত সতেরোর মাঝামাঝি
কোন তিল ক্ষেতের পাশে যে নীল পুকুর
তার মৌসুমী লগ্নজাতকে প্রসন্ন করে
তিনবার জাড্য জাড্য বলে চিৎকার করলে দেখবেন
আপনি প্রাগৈতিহাসিক এলিয়েনের থেকেও
জাদুজাড্য।
আপানার বস্ত্রহীণ শরীর
আপনার ঢুলুঢুলু আঁখি পল্লবে
ক্ষুধা কাম বহির্ভূত এষণামুগ্ধ আত্মরতি
অর্থস্নাত এক নক্ষত্রের বাসববান্ধব।
এখন জাগ্রত এক মহাজাড্যর মাঝে আপনি
নির্বাণাকার তুতুমানব।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।