গুচ্ছ কবিতায় চিরঞ্জীব হালদার

১| কবিতা সংগ্ৰহ
আট খন্ডের কবিতা সংগ্রহে কোন বিজ্ঞান নেই।
কিছু ছিঁচকেমি
অলসতা আর ভুলভাল এপ্রোচ সহ
দু’চারটে মাধবীলতার ভাটবকা উদ্ধার করতে পারেন।
মালার্মে মরে যাওয়ার অর্ধশতাব্দীর পর দক্ষিণারঞ্জন
এক স্মরণ সভার আয়োজন করে বুঝতে চাইবেন
এমন সংগ্রহে কার ভূমিকা ঠিক কতটা অবশিষ্ট।
উত্তমবাবু ও নবকুমার খুব সকালে উঠে
দাঁত মাজতে মাজতে দেখবেন কোন এক কাপালিক কন্যা
তাদের জন্য কবিতা সংগ্রহের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ছিঁড়ে
আগুন সংলাপে অন্ন প্রস্তুতে ব্যস্ত।
২| অলংকরণ
ভরণপ্রিয় মানুষ অনাবিল আমলকী গাছের নিচে
হেমন্ত খুঁজতে বেরিয়ে দেখলেন
খ্যাতি কলঙ্কের সাথে
ক্ষুধা সমঝোতার সাথে
বিষন্নতা প্রেমিকের সাথে বচসা শুরু করেছে।
ঘটনাচক্রে পতাকা তাকে বলল তোমার সাদা রঙ
ধার পেলে বসন্তের কালো পাখি তোমার জন্মদিনে অতিরিক্ত আয়ু দিতে পারে।
মানুষটা একবার শিক্ষক হয়ে ওঠেন।
শিক্ষক একবার প্রিয় ছাত্র হয়ে উঠলে মাধবী গাছ
মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করে জন্মদিনের নেমন্তনে কটা রানী মৌমাছি আপনাকে অলংকৃত করবে।
৩| হাসি
উপকূল বিশালের সমীপে গিয়ে টের পেলেন
হাসা এক জঘন্যতম অভ্যাস ।
তিনি প্রথমে তার স্মৃতি থেকে
সব দু’কানকাটা বদমেজাজী লেখকদের
আলাদা করতে গিয়ে দেখলেন
দস্তয়ভস্কির দৃষ্টি তখনও জুয়া পার্লারের গোলক ধাঁধায় বুঁদ হয়ে আছে।
তার অপরপক্ষের হাস্যরব নাবিক টের পেয়েছিলেন কিনা উপকূলের জানা হয়নি।
যেমন জানা হয়ে ওঠেনা নাবিক তার গোপন তরঙ্গ থেকে বের করে মহার্ঘ্য হাসি গুলোকে বিলিয়ে দেওয়ার নটিক্যাল কৌশল।
আপনি উপকূলকে কখন হাসতে দেখেছেন।