গুচ্ছ কবিতায় চিরঞ্জীব হালদার

১| মহারাত্রির

রাত্রি ও মহারাত্রি।
তোমার নুপুর কণা
কোথায় রেখেছো।
খোদা জানে।
ও জানেমন রাতপরী।
তোমার শেষ পোশাক থেকে
নিশাচর জন্মের কাহিনি শুরু।
সব আলো নিভিয়ে
কাম নিভিয়ে শুনতে থাকো
দীপন পাগলের ফুলকারি সংলাপ।
তারপর মহারাত্রি আর পর্বতের সঙ্গম শুরু হবে।
খোদা কথিত এক-একটি অক্ষর ব্যালার্ড
চাঁদের গা চুইয়ে এখন নেমে আসবে ভূমন্ডলে।
জৈব বন্ধন আর বায়ুমণ্ডল।
চিৎকৃত অবস্থান আর নীরবতা
দ্বিতীয় জন ছেয়ে আছে
স্নায়ুতে স্নায়ুতে।

২| শরনার্থ

দৃষ্টি আর চশমার ভেতর
অলীক শরনার্থী।
বায়ুমন্ডলকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে
পরিচয়পত্র থেকে আধিকারিকের হস্তাক্ষর মুছে গেলে
সীমান্তপ্রহরীকে কত নজরানা দিতে হবে।
কঝিকোট থেকে হেঁটে আসা জেলে
মৃতের ঠিকানা ধার করা ডোম
ক্ষৌরকার এক ভাষাবিদ
এদের প্রত্যেকের চ্শমা কে বলা হয়েছে
নোম্যান্সল্যান্ডের লাইনে দাঁড়াতে।
প্রত্যেকের নিজ নিজ লুপ্তজ্ঞান
মুখস্থ করতে থাকুন ।
যতক্ষন না অন্তরাষ্ট্রীয় বিবেক বিষারদ
লাটখাওয়া সুতোর ধারা বিবরণী শেষ না করেন।

৩| কালধার্মিক

নানির অপরূপ স্বচ্ছ কাঁচের না লুকানো হরলিক্স শিশি।
আহা তুমি এখনও ভরাট যৌবনা।
স্বচ্ছ প্রতিমার মতো গলে গলে পড়া অনাবশ্যক
লালার জোগানদার।
৫০ বছর পরেও তার মেরুদন্ডের সটান মেধাকণার
ফুল্লকুসমিত হাসি আর ফাঁদি নথ এর উড়াল ময়নার
নাম গোধূলিময়তা।
দোক্তাপাতা আর ঢ়েঁসকালে লুকানো চিরহরিৎপ তামাক পদব্রজে শহরের বারোফুট বাই বারোফুটে
কোন প্রাক-জানান ছাড়াই ঢুকে পড়ে জল চায়।
আমার পাঁচ পকেট ই শূন্য।
যুগ্ম হিসেবের খাতায় অদৃশ্য নেলবিমুভার এর যাযাবরী সংলাপ।
তোমাদের টানটান কৌলিন্য আর আনপ্রেডিক্টেবেল হরফ মাধুরী কোথায় যে সাজিয়ে রেখেছি মনেও আসে না।
স্মৃতি বিলুপ্ত রাতেরা অকল্পনীয় কামচতুর।
ঘোটকি সময় নিভন্ত ঘাঘরায় ডেকে ওঠে তাহার সমীপে।
অন্ধ আড়তদার শুধু তার স্ত্রীর তাবিজে
এই শবের সাথে লুকিয়ে রাখে সৎ চাবিদের ।
আহা তারাও এখন ভরাট যৌবনা।
চমৎকার তাকিয়ে থাকো আকাশের দিকে।
হয়তো আকাশ তোমাকে বান্ধব ভাবেনি।
গাছম-ছম অন্ধকারে চমৎকার তাকিয়ে থাকো।

৪| আকাম

তারা যারা আত্মহত্যা করবেন বলে ঠিক করেছেন।
প্রাণের গহীনে যে সব নিষিদ্ধ বুনন আছে।
কারি-কর্ম আছে।
সুতো এবং সিফন সম্পর্কের টানাপোড়েনের
গলিঘুজিতে দু’চারজন হরর আততায়ী
বুক চিতিয়ে দরজা জানালা হাট করে আগ্নেয়াস্ত্রে সান দেয়।
তাদের নিমন্ত্রনলিপি ধরে নিন এই কবিতা।
দু চারটি রং করা জলের বোতল তাদের
বানানো বান্ধব।
কে বলতে পারে
তাদের অন্তর্বাস গুলো সাফ-সুরত করার জন্য
ঈশ্বর আর ভুতের মধ্য নিরন্তর খিটিমিটি।
আমার কাজ এই সবের ভেতরে কচ্ছপটা কে
বের করে এনে বউয়ের সামনে হাজির করানো

৫| অন্বেষণ

শিকলের পাশে একটা জীবন্ত শূন্য।
শৃঙ্খলিত।
দুজনেই আত্মাকে খুঁজে চলেছে।

৬| দেবুর না লেখা চিঠি

ক্ষুধার্ত ইঁদুরের মেধা থেকে নেমে আসা পেন্ডুলাম তোমাকে চিঠি লেখা যায় কিনা কে বলে দেবে।
হে আমার অষ্টাদশ শতাব্দীর কলম তুমি কি অবশেষে মিথ্যা সাক্ষীর ভার বহন করবে। ছায়ামানবীর অখণ্ড কুয়াশার কাছে নত থেকে ধার করে চলো সম ঋদ্ধতা।
তোমাকে চিঠি লিখি আকাশ।
তোমার নাভি থেকে যে ঘাতক মেঘেরা
নেমে আসে দলবেঁধে আমার লাউ খেতে
কুমারী ফুলেদের কাছে তাৎক্ষণিক ভালোবাসার প্রস্তাবনাগুলো নক্ষত্রের মতো দুলে উঠলে
পুরানো চিঠিরা ভীষন মুখরা।

আজ শনিবার এসো দেবু।
সমস্ত আভরন খুলে দেখে নিও চিঠির বালক
ক্যানিং স্টেশনে কেন আজ ও অপেক্ষায় থাকে।
তোমার অতলান্টিক ফেরত পোষাকে
কোন শতাব্দী প্রাচীন পেন্ডুলাম দোল খায় কিনা।
বাড়ি ফিরে চিঠি লিখো বধুয়া যতনে।
ক্ষুধার্ত ঢেউয়ের মেধা থেকে নেমে আসা নগ্ন নাবিক
চিঠিতে জানাও কারা তোমার
আঠোরো’শ বাহান্নোর গল্প কথক।

৭| ঘড়ি

সমস্ত ঘড়ি আমার অলৌকিক অনুসন্ধানকারী।
সন্দেহবশত এক’শ আশি ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া
স্বভাব অনুমোদন করে না।
রাইচাঁদ বড়াল স্ট্রিটে ঢোকার আগেই দেখি ঘড়িটা জায়গা দখল করে বসে আছে।
তখনো কনসার্ট শুরু হয়নি।
এই যাত্রাপালায় মৃত বিবেকের ভূমিকায় দেখা যাবে
তাকে।
শেষ অঙ্কের আগে আমি জানি বিবেক আমার নাম ধরে ডেকে উঠবেন।
সরাসরি দর্শক আসন থেকে উঠে পড়বো রঙ্গমঞ্চে।
এখন ঘড়িটাকে দম দিতে হবে

৮| ঋণ

ধরুন আপনি পোশাক উল্টো পরেছেন।
বাম হাতে দিব্বি বোতাম গুলোকে
ডাইনের নির্ধারিত ক্ষেত্রে ভরে দিলেন।
ধরে নিন আপনি কুৎসিত।
নিরীহ বোতামের মতো
সুতো দুর্বল বা বিশ্বাসঘাতকতা না করা পর্যন্ত বাড়ির
আপনি শোভন সভ্য।
ধরে নিন বখাটে চক্ষুস্মানদের পুরোহিত আপনি।
ধরে নিন হাতুড়ি মার্কা ফিনাইল এক্স আপনার বান্ধবী।
বাড়ির উন্ল্টো দিকে জবরদস্ত স্প্যানিয়েলের
নড়ন -চরন দেখে টের পান এবাড়িতে কালবৈশাখী
বলে কেহ বসত করে কিনা।
দেখবেন আপনার বাতাবী লেবু গাছের
স্বাস্থ্য সংবাদ স্বয়ংচালিত হলেই
বাতাস কৃতজ্ঞ।
কর্তা
জামাটা ছাব্বিশ ঘন্টার জন্য ধার দেবেন।
আবিষ্কার আর রাতের অন্ধকার।
উভয়ে বহন করে লেনেভো হ্রদের কাল্পনিক আত্মাকে।
একজন নীল ঈশ্বরী।
অন্যজনা
প্রেতহাসির দুধসাদা বিবেকের কলরব।
প্রকৃত পক্ষে আমাদের একাকী দরজারা
উভয়ের সাথে নশ্বর বন্ধুত্বে
ভাসমান।
আমি তার অক্ষম নগরকোটাল।

৯| আমরা

তোমার জিভ আর আমার জাগতিক জিভ এর মধ্যে বসে আছেন নাদ ব্রহ্ম।
দূরত্ব সাড়ে তিন বাঁয়া।
বাঁয়া শব্দটিকে এযাবত কোথাও খরচ করিনি।
আমার নিষিদ্ধ ভান্ডারে মহিঘুমে জারিত থেকেও
হারানদাসীর কড়া প্রহরায়।
কাঁঠাল গন্ধ ছাড়াও নীল মাছিরা আজকাল
দিনগুলোর ভেতর অশৈলো বোঁ-বোঁয়ানী ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
কোন সুচিন্তিত প্ররোচনা ছড়াই আমরা বেড়ে উঠবো।
প্রতি গৃহস্থ ঘর থেকে এখন আমরা উদ্ধার করে আনবো উপছানো হৃদয়চূর্ণ।
কে কে সঙ্গে যাবেন হাত তুলুন।
আমাদের কোন ছায়া এই অভিযানে সঙ্গে থাকবেই না।
ঘনায়মান চূর্ণের ভেতর আমরা প্রকৃত আমরা হয়ে উঠছি।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।