গুচ্ছ কবিতায় চিরঞ্জীব হালদার

১| খরিদ্দার কথন

আলতাকে মনোহরণ ভাবিবার অনেক কারণ আছে।
দর্পণ ভাবেনি তিনিও মনের সমাহার।
উঠোনে না ফোটা বেলি
আমার থেকে সে মনকে কিঞ্চিৎ চেনে।
সুদখিনা এসো এসো
দর্পণে দেখে যাও করবী সভ্যতা।
আহো বউপাখি কতদিন দেখিনি তোমায়।
হে তন্বী ঋতম্ভরা আরো জোরে পাঁচালীর পাঠদান
মনের সমীপে।
কুসুম তোমার মন নাই
ওই দেখো উদিত কলঙ্ক চন্দ্র
গৃহী ও তাপস ।
দুজনেই পারদর্শী তোমার খেয়ালে।
ওহে মনিহারী দোকান
আমাকে একশত আলতা ও মন দিতে পারো।
কেমন আছেন ফ্রিডা।
রাতের নিভৃত বাতিদান পোষা বিড়ালের মত
লোমশ লেজ দোলাতে দোলাতে এক গুচ্ছ
জাফরানি অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে চলেছে
তেরোই ফেব্রুয়ারী।
এসময় স্কুল ফেরত ছায়া
জরুরি বিনিময় সেরে নেয় স্যাঁতস্যাতে সিঁড়ি ঘর।

২| একটি নিরামিষ কবিতা

বাঁদিকে গোলপার্ক ছাড়িয়ে হাঁটতে থাকুন চমৎকার পুরুষ ।
তিন’শ বছর আগের এটা কোন সারপেন্টাইন জলাধার নয়।
কোনও এলি-তেলী ষোড়শী আপনার প্রেমিকা হতে
না পেরে জলে ঝাঁপ দিলে জল পুলিশ ডাকবেন।
বাদলা পোকারা আসবে পাল্কী চেপে ।
সমবেত ড়ানা খোয়ানোর আগে পংক্তিভোজে ভিড়ে যাবে।
অভিপ্রেত বিরহের হরিণ পুরুষ।
মুগ্ধ নক্ষত্রের কাছে বিষাদের হলফনামা গচ্ছিত রেখে রচনা করো বিবাহের লঘু সঙ্গীত।

৩| আপনাকে

কুরিডন ট্যাবলেট কেন খেতে হয়েছিল।
কুড়ি বিঘের যে বাস্তবতা তার সরল সাযুজ্য থেকে
যে বিশ্বাস তৈরি হয় তা আপনার পাঁচ-পাঁচটি বিনিদ্র রজনী।
বসন্ত ঝামরে পড়লে প্রেম আর পরিণয়ের ভেতর এক অদৃশ্য হাইপেন হয়ে ওঠে
মিথ্যে ঘটকালির এক একটি প্রক্রিয়া।
যে ছায়া দেখে
মানুষ জেনে যায় রাষ্ট্র কীভাবে চালাকি গুলোকে বিশ্বাস যোগ্য করে তোলে ।
কিভাবে এক তরুণ তার প্রাণভোমরা পান্ডুলিপিকে
বালি ব্রীজ থেকে জলের গর্ভে নির্বাসিত করায়।
দু’চারজন বন্দি জোটাতে না পারলে
কারারক্ষীর শুকতলাও হাঁচি দিতে দিতে
আত্মহত্যার ব্যাকরণ মুখস্থ করবে।
আরও সত্যি কথা হলো অতিরিক্ত রাত্রি আপনাকেই ব্যায় করতে হবে হাভাতে ঠগীদের সমাজ কল্যানে।
হাড়-মাংসের কাঠামো খুলে দাঁড়িয়ে আছে দরদীয়া
সড়ক।
তার প্রতিটি বাতিস্তম্ভ থেকে চুঁইয়ে পরা শব্দের নাম
আপনি।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।