দিব্যি কাব্যিতে চন্দন ঘোষ

রক্ত প্রবাল

একটি সদ্য কুঁড়ির জন্ম হল,
তার প্রথম কান্নার আওয়াজের
অপেক্ষায় ছিল একটি সতেজ হাত।
প্রথম কান্নার আওয়াজ শুনে
খুশিতে হাতটি কাটা পড়ে গেল,
যে হাত ছিল মেঝের মতো শক্ত
আর ছাদের মতো সহিষ্ণু ।
তার তলায় থাকত দুইটি নিষ্পাপ প্রাণ

যখন কুঁড়িটির বয়স মাত্র ছয়
আবার একটি হাত কাটা পড়ে গেল
যে হাতটি মাছের কাঁটা আলাদা করে খেয়িয়ে দিত,
যে হাতের কোমল ছোঁয়া তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিত।
গভীর রাতে যখন গায়ে আগুন জ্জ্বলছে,
সেই হাতটি বসে থাকত বালিশের পাশে।

তখন তার শেষ সম্বল একটি প্রাচীন হাত
এগিয়ে আসে ধীরে ধীরে,
সে হাতটির কয়েকটি শিরা-উপশিরা
তখন শ্মশানের লকলকে আঙ্গারে জ্বলছে।
তার বাঁকা ফিমারের মজ্জার জোরে,
সে বৃদ্ধ হাতটি তাকে টেনে বেড়ালো পঁচিশটি বছর
তার পর হঠাৎ করেই একদিন নিস্তব্ধ হয়ে গেল ।
সে হাতটিও কাটা পড়ল ……!

এখন তার তিনটি হাত
যারা তাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিল
আকাশের তারা হয়ে ঘুরে বেড়ায় তার চারপাশে।
আর এখন সে নিজে হয়েছে ‘কীরণমালী’,
তার ধারে পাশে না কেউ আসে ,
আর না কেউ আসতে পারে ।
তার ‘বিভায়’ এখন অঙ্কুরিত হয়
শত শত বাংলা ভাষার মুখ।

সে হাজার বার মরেছে…..
তার মৃত লাশ গুলি এখন হয়েছে ‘রক্ত প্রবাল’ ।
তার অতীতে ঝরে পড়া প্রতিটি নোনা জলের ফোঁটা
আজ ঝলসানো কবিতায় দধিচির হাড় …..

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।