T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় ছন্দা চট্টোপাধ্যায়

পাটপচানি
মেয়েটা হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতো কামালপুর থেকে পাথরঘাটা, মাইল পাঁচেক পথ…
দুধারে পাট পচানোর ডোবা, অর্ধ উলঙ্গ শরীরে গামছার নেংটি পড়া আব্দুল, লতিফ, খোকন…
বলিষ্ঠ অবয়ব সর্ষে তেলে চকচকে,
পচা পাট দুলছে …ডোবার পাড়ে,
গাছে গাছে পেঁচানো লম্বা দড়ি…
দড়িতে দুলন্ত ধর্ষিতা নারী।
মেয়েটা হাঁটছে বামনগাছি থেকে শেখরপুর…
পচা পাটের গন্ধ তার কায়াময়,
যে ডুবিয়েছিল ভালোবাসায় তাকে,
আজো সে প্রেমে মায়াময়।
ভালোবাসা কি সবার সয়?
নয়নজুলির ঐ পাড় থেকে দিগন্তবিস্তৃত পাটের ক্ষেত,
মেয়ের ঘরের মানুষ ভালোবাসে পাটের পাতা দিয়ে মেথি ফোড়নে অড়হর ডাল!
নয়নজুলির ওপরে আলপথ বেয়ে…
চকিত চপল চঞ্চল চরণ,
অলক্ত রঙিন মেয়ে ছুটে যায় …
রফিক, আব্দুল, খোকন…
চোখ তুলে চায়!
–‘সমীরের লেইগ্যা পাট পাতা আনতি যাও মা,
টুকুস সাবধান,
পাটের বনে শেয়ালের বড়ো ভয়…
জ্যান্তে ছিঁড়ে খাবে শতখান!
খবরদারে যাইয়ো কতিচি পয়পয়.. ‘-
-‘ভয় পেয়োনি কাকা, এই যাপো আর আসপো’-
আশেপাশে কিছু চিল শকুন বসে ঘাপ্টি মেরে,
মুদ্দো ফরাসের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নারী দেহের ওপরে।
নৃশংস ধারালো নখ ও দাঁতে কুটি কুটি করে ছেঁড়ে জীবন্ত শরীর।
রফিক বলে–‘ সমীরডা ভুগতিচে বড়ো, পাটের লোভে নোলায় পানি বয়!’-
আব্দুল কয়–‘ওর যে বুকির মধ্যি রোগ…ক্ষয়!’–
খোকন বলে –‘অখন্ তি ফেরলোনি বৌমা,অই তো হোথা দেকা যায় পাটবন…
পাঁচ মাইল দূরিও তো বটে লয়!
গেচে তো অনেক্ষণ!’–
তিন জোয়ান বৌমার খোঁজে পড়ি মরি দৌড়ায়।
ছিন্নভিন্ন খুবলে খাওয়া শরীর নির্বসনা…
ঠিকরে বেরিয়ে আসা আইবল!..
–‘ক্ষেতির অই কোলায় ইঁটির ভাঁটা পাঞ্চেত পেধানের,
বৌমারে সাবধানি তোলো, সাস্তকেন্দে নে চলো…’–
তোলপাড় গ্রাম, সন্দেহের তালিকায় রফিক, আব্দুল, খোকন!!!
প্রধানের বুদ্ধিতে কোয়াক ডাক্তার সার্টিফিকেট দেয়
–‘খেয়েছে শেয়াল’–‘!
গ্রামে নেই কোনো সেমিনার হলের দেয়াল!
ভাঙলো খালি সমীরের ঘর, তার অরুচি মুখে সোয়াদ আনা পাট শাকে অড়হর ডাল।
সমীর গোঙায় –‘ মোর লেইগ্যে মরিচে সে,
মুইই মেরিচি তারে..
খাবোনি আর পাটের ডাল।
শুধু পাট পচানি ডোবার আশপাশ…
দড়িতে দোলে মেয়ের আধখাওয়া পচা লাশ…!