T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় চিন্ময় বসু

১| সহবাস
এত অন্তরঙ্গতা যে আর কোনো স্বপ্নেও আসি না। নয়নাভিরাম পাখি নয়, মাটির গহনে যাওয়া গলিঘুঁজি শিকড়ের শ্রেণী নয়। বিস্ময় নেই। আমি তো কাছের মানুষ। ধরা পড়া মাছ। সিঁথিতে সিঁদুর। আমি নিজেরই তো লোক। বাড়ির মাথায় বাজ পড়লেও কারো গরজ নেই। সাপের বেনী, পায়ে পায়ে মল কিছু নেই আর। ফিরে এলে খুশী? কোথায়? আপন না! হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার, মরবার ভয় নেই, ভুল করেও না। এখন খালি হিশ হিশ ফণা আর সোনালী কথার ভূষি। আড়ষ্টে জড়াজড়ি। ক্রিকেট খেলার উত্তেজনা ও তারপর শুয়ে শুয়ে ঘুম দেখা। দেখতে হবেই, নিজের লোক।
ওর বুকের শূন্যতার ফাঁকা মাঠ আমি, কোন বিস্মিত ঝরাপাতা না, ঝরাপালক না। আগে ছিল প্রজাপতি, ভোরের কোকিল । আগ্রহী চোখে আজ উধাও দৃষ্টি, কোন সম্পদ নেই, ভিখারীর বেশ। ঘুমে অচেতন হলে ঘাড়ের নীচে হাত ঝিনঝিন করে, এত কাছে! হাত সন্তর্পনে বার করে নিই। মাথার ভিতরে আহত পরীর দল আসা যাওয়া করে।
২| বন্ধ ঘরে বেড়াল
মারবে? বেড়াল কেউ মারে না,
মারতে নেই।
বন্ধ ঘরে বেড়াল কিই বা করবে।
দেয়াল বেয়ে উঠবে।
নয়তো আসবাবপত্র আঁচড়াবে।
মনে হবে যেন কিছুই হয়নি,
সব একই আছে।
কিন্তু সব আলাদা।
কোন কিছুই সরে নি
কিন্তু সবই নড়ে গেছে।
রাতে আলো জ্বলে না।
সিঁড়িতে পদশব্দ,
তাও আছে তবে পরিচিত নয়।
যে হাতে প্লেটে মাছ আসতো
সে হাত নেই।
কিছুুুই এখন সময় মেনে হয় না,
সেভাবে হয় না,
থেমে গেছে একবারে হঠাৎ।
সমস্ত আলমারী তাক খোঁজা শেষ।
সব লেপ বালিশ; এমন কি
কাগজ ঘাঁঁটার সব নিয়ম
অমান্য করার কাজও শেষ।
আর কিই বা করা যায়,
অপেক্ষা বা ঘুম।
আসুক, অন্তত একবার
নিয়মরক্ষার খাতিরেও;
তখন নয় শিখবে যে
পোষা বেড়ালের সাথে
এরকম করা উচিত নয়।
দৃশ্যতঃ অপমানিত
অনিচ্ছুক ধীর থাবায়
না লাফিয়ে বা না শব্দ করে
অভিমান করা যাবে।