।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় চিন্ময় বসু

ধাতু

কি এই ব্যর্থ ভুলেভরা
আকাশ! কি!
গোলাকার সীমাবদ্ধ
চুরি করা রন্ধ্র পথ,
দৃষ্টির গোচর।
আমার দৃষ্টি, সবার।
মাঝে মাঝে প্রাণ আই ঢাই করে
দম ফেটে আসে এই চাপা আকাশে।
ওহ! একটু হাওয়া, কিছু বিস্তার।
আকাশ নির্নিমেষ থাকে,
আত্মায় কিছুই দেয় না।
কোনো ছাপ নেই;
শুধু,
শুধু দেখা যায়।
আর ছাই নেয় ও না কিছু।
যেমনকার তেমন রয়ে গেছি।
আকাট, নিথর, ঠান্ডা, কঠিন…
আলো অন্ধকারে বিচ্ছুরিত
রামধনু রঙে শান দেওয়া
ধাতু হয়ে
অন্য অন্য আকাশে।

পরশপাথর

ফিরে এসো
আমার জীবনে
ফিরে এসো
তোমার জীবনে।
ও নেইপাথর তোমার ভরসায়
তোমার আশায়
আমার জীবন
ওহ! আমার শঙ্কা
তুমি তো আমায় চেনো।
আমার স্বপ্ন! তুমিও তো জানো।
ঘুমে অন্তর্ধানে তুমি উড়ে এসো জাগ্রত,
বাঁধ ভেঙ্গে ধারালো ঢেউ এর
সফেদ ফেনিল উচ্ছলতায়
ভর করে এসো
লাগামহীন ঘোড়ার প্লুতগতি
শব্দ তুলে।
কখনো বা মাঝ রাতে
এক ঠায় খাড়া তারার
মত নির্নিমেষ,
বুকে শলাকা বেঁধার বিস্ময়ে,
মুখ টিপে উন্মুক্ত ক্ষতের
আর্তনাদের মত,
গানের মত ফিরে এসো।
শুকনো কারুকাজ করা কালো
পাতাগুলি ঝরে অবিরাম,
সুন্দরী তারা এখন বাঘিনীর
মত পাশ ফেরে।
অলস বিজুরী, স্থির ইগলের পলক পড়ে।
পালক ঝরে পড়ে ।
সুসজ্জিত তীর নেমে আসে
অবশেষে ।
অমোঘ প্রহরে
দেখা হয় রক্ত ঘড়ির সময় ধরে,
আমার এই জীবনের
পরশপাথর।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।