T3 || লক্ষ্মী পুজো || বিশেষ সংখ্যায় চ্যাটার্জী অমল

সন্ধ্যা
দিনশেষে সূর্যের তেজ ম্লান আর প্রকৃতি ঘিরে
আলো আঁধারির আনাগোনা হতেই নরম বিকেলের
হৃদয়ে ভাঙে বিদায়ের সুর।ইতিহাসের ছেঁড়া পাতাতেও
লেখা আছে “বেলা শেষের প্রশান্ত পাঁজরে জাগে
মৃত্যুর হাতছানি।”
দিনের সবটুকু ক্লান্তি নিয়ে আকাশের শেষ নীল
বনানীর শ্যামলতা ছুঁয়ে মৃত পাখির মতো ঢলে পড়ে
ধ্যান গম্ভীর দিকচক্রবালে।বিশ্বময়ীর সামিয়ানায়
প্রতিনিয়ত ঘটে চলে রক্তিম আকাশ আর সান্ধ্য
মেঘমালার বাহারি অহঙ্কার।
দিনের শিকড় তুমুল আঁকড়ে ধরেও আলোর জীবন
তলিয়ে যায় সন্ধ্যাসতীর আলিঙ্গনে,আবহসংগীতে
বেজে ওঠে সন্ধ্যারাগে সান্ধ্য আগমনী।চারু সন্ধ্যার
অদ্ভুত সুবাস গায়ে মেখে রঙ-বেরঙে-র পাখিরা
সারাদিনের খবর নিয়ে ডানা ঝাপটায় আপন ঠিকানায় l
দিনের শেষ ধুলো উড়িয়ে ক্লান্ত রাখাল গরু নিয়ে
ফেরে ঘরে। তুলসী তলায় সন্ধ্যা প্রদীপের রাঙা পবিত্রতা,
পৃথিবীর বুকে সৃষ্টি করে এক নব স্বরলিপি।নি:ঝুম বনানীর
বুক চিরে উড়ে যাওয়া জোনাকি জানেনা জীবনের মানে,
ভাবনার ডালে বসে খোঁজে সঠিক পথের দিশা।
সময় বদলে যায়, সন্ধ্যার অহমী কুমারী শরীরে
প্রহর হয় নিরেট ,দশদিকব্যাপী প্রাপ্তবয়স্ক অন্ধকার
ফিরে পায় মধ্যযুগীয় রাতের নিজস্ব গল্প। তারপর…
সবই পূর্বনির্ধারিত, সাজানো অবয়বে ফিরে আসে
সেই একই বৃত্তে ।।
বাঃ