ক্যাফে গদ্যে চারু

ভাবনারা যেমন ভাবে
ঝলমলে দিনের আলো ,হাজার বিষন্নতার মাঝেও যেনো আমার মনের কোণে কোথাও যেনো নিয়ে আসে এক দমকা হওয়ার মত আলোর ঝলকানি । জানলার ধারে বসে দূরের ওই মিষ্টি রোদ দেখি আর বলি ,রোদ্দুর একদিন তুমিই তো ছিলে আমার প্রেমিক। আর আজ আমি কঠিন রোগে সব হারিয়ে অসহায় এক পাখি ।যার প্রাণটা আজ শুধুই খাঁচায় বন্দী । জানি না কবে পালিয়ে যাবে উড়ে ওই নীল আকাশে অথবা সবুজ ঘেরা গহীন অরণ্যে , যেখানে তোমার প্রবেশ নিষেধ । একটা আত্মা যে মনুষ্য শরীরে থাকা কালীন চেয়েছিল এক টুকরো নরম ভালোবাসা । ভালোবাসার মানুষটির একটু সান্নিধ্য । একটু গল্প , একটু কথা , হাতে হাত চোখে চোখ রেখে , হারিয়ে যাওয়া , সাথে দুকাপ ক্যাপাচিনো কফি । মাঝে মাঝে একটু লং ড্রাইভ নাম না জানা পথ ধরে নিরুদ্দেশে । বেশি কিছু নয় আমার চাওয়াটা একটু হিজিবিজি পাগলামি ।
জানো আজকাল রাত্রি কে বড্ড বেশি ভয় করে । কি বড়ো কঠিন সে , ঘুটঘুটে নিকষ কালো অন্ধকার যেন আমার খাঁচার ভিতরের প্রাণ টা এক লহমায় ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে কোনো এক দম বন্ধ অন্ধকার গুহায় । আর ভাবতে পারি না । ভীষণ কান্না পায় । মনে হয় এই পৃথিবীতে আমি একলা এক আজীব জীব । যার কেউ নেই যে শুধুই একা, একা একটা প্রাণ খুব সন্তর্পনে টিকটিক করে চলছে । যেকোনো মুহূর্তে এই অসুস্থ জরাজীর্ণ শরীরটা থেকে প্রাণটা কে …. থাক সে সব কথা ।
কোনো এক সময়ের সেই সাহসী মেয়েটা, যে কোনো কিছুকেই ভয় পেত না । যে কোনো বিপদে কোনোদিন ভেঙে পড়েনি । আজ সে সামান্য অন্ধকারকে ভয় পায় , অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যেকোনো কিছুতেই প্রচণ্ড ভেঙে পড়ে , ভেঙে পড়ে কান্নায় । তবে আজও সে কারোর সামনে কাঁদতে পারে না । খুব ইচ্ছে করে গলা ছেড়ে চিৎকার করে কাঁদতে কিন্তু কোথায় যেনো সে আটকে যায় নিজের কাছে নিজেই ।
সেই মেয়েটা যে সব সময় হাসতে ভালোবাসত , আনন্দ করতে ভালোবাসত সেই আজ বড্ড বিষণ্ণ , আনন্দহীন , হাসি বিহীন এক জীবন । একলা , একা বর্ণহীন এক নারী জীবন ।জীবন্ত কিন্তু প্রাণহীন …………..।