গল্পেরা জোনাকি তে বিবেকানন্দ ত্রিপাঠী

কেউ নেই, তিনি আছেন

অধীর ঠাকুর এখান ওখান পুজা করে সংসার চালান।বিঘা দুই জমি ছিল বটে তবে চাষ করার সংগতি না থাকায় গ্রামের একজনকে ভাগে দিয়ে দিয়েছেন।যে বছর বৃষ্টি ভাল হয় সে বছর দু তিন কুইন্টাল ধান থেকে চাল বানিয়ে দেয়,যে বছর বৃষ্টি কম সে বছর কিছুই দেয় না।
অধীর ঠাকুরের পরিবারে তার স্ত্রী,এক কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে। ওরা অবশ্য বয়সে ছোট।গ্রামের স্কুলে মেয়ে পড়াশোনা করে।ছেলের স্কুল যাওয়ার বয়স হয়নি।সংসারের খরচ তেমন একটা বেশি নয়।তার স্ত্রী কুলিয়ে গুছিয়ে চালিয়ে নেন।অধীর ঠাকুর পাশাপাশি গ্রামে কয়েকটি গৌড় পরিবারে পুজাপাশা করে যা পান তাতে কোন রকমে চলে যায়।
গতবার পঞ্চায়েত ভোটে অধীর ঠাকুরের যজমান জয়ী হবার পর ঠাকুরের পরিবারে দু জনের জব কার্ড করে দেন।বিপি এল তালিকা ও কিষাণ সম্মান নিধি তালিকাতেও নাম তুলে দেন।চার জনের পরিবারে এবার বেশ কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে।সেই সাথে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও আসে ঠাকুরের স্ত্রীর নামে। ঠাকুরের ছেলেমেয়ের পড়ার ব্যবস্থা এবার হয়ে যাবে।
অধীর ঠাকুরের পরিবার ভালভাবে চলছে,এটা অনেকের সহ্য হত না।লোকসভা ভোটে ওই গ্রামের বুথে রাজ্যের শাসক দলের ভোট কমেছে।স্থানীয় নেতা খবরাখবর নিয়ে বুঝতে পারেন ঠাকুর পরিবার সহ কয়েকটি পরিবার অন্য দলকে ভোট দিয়েছে সন্দেহে সরকারি সুযোগ সুবিধা বন্ধ করার হুমকি দেন।অধীর ঠাকুর দেখেন আগে হাজিরা দিলেই তার ব্যাংক খাতায় মজুরির টাকা এসে যেত।কয়েক মাস হল আর আসছে না।লক্ষ্মী
ভান্ডারের টাকাও আসছে না।বিনা পয়সার চাল ছাড়া বাকি সব বন্ধ হয়ে গেছে।ঠাকুর পরিবারের সংসারে টানাটানি শুরু হয়ে গেল।
বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর তিনি তার যজমান
বাড়িতে গিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যের সাথে কথা বলেন।পঞ্চায়েত সদস্য বলেন আপনার নামে দলের উপর তলায় খবর গেছে।আমি আর কিছু করতে পারব না। অগত্যা তাকে খালি হাতেই ফিরতে হল।
অধীর ঠাকুর মনমরা হয়ে ঘরে ফুরে এলেন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।