কবিতায় বিমল সামন্ত

আমার হয়তো স্বাধীন
আজ আমার পৃথিবীটা অন্য রকম, আলসে আর বিশ্রামের দিন
জ্বল জ্বলিয়ে বলছে ক্যালেন্ডার আজ আগস্ট ফিফটিন।
আকাশ ঘিরে পাখি কম, তিরঙাতে গিয়েছে ভরে
স্কুল ছুটি, অফিস ছুটি খুশি সবর মনের মণিকোঠারে।
গ্রাম-শহর আজ সাজো সাজো ভাব, ভরেছে মাইকিং কুচকাওয়াজ
বেনিয়মে ভুলিয়েছে আজ পাখির কলতান।
হক কলরব, হক কোলাহল নিয়ম ভাঙ্গার জালে
মন্দ কি একদিন একটু অন্যরকম হলে।
আমিও আজ করছি প্ল্যান রেস্টুরেন্টেই করব ফ্যামিলি লাঞ্চ
এমন একতা খুশির দিন মিস করা কি যায়,
সোশ্যাল মিডিয়া এর স্ট্যাটাস পাওয়ার ভরানোর চান্স।
নতুন এক পাঞ্জাবি পরে বারান্দাতে চায়ের কাপে এক চুমুক
মুখটা আমার ফ্যাকাসে করলো কাকু অমুক।
অমুক কাকু কেউ না ঐ পাড়ার মোড়ের মুচি
রোজের মত করছে কাজ, নেই বস্ত্রে কোন সূচি।
প্রাণপণে করছে পালিশ, জুড়ছে ফাটা জুতো
ছুটি নেওয়ার জো নেই, বড়িতে স্ত্রী অসুস্থ।
ক্যান্সারের রোগী কাকিমা বাড়িতে তেমন কিছু পারে না
অমুক কাকু না কাজে বেরোলে যে উনুনে হাড়ি চড়বে না।
অমুক কাকুর কাছে আজ দিনটা আর ৫টা দিনের মতোই
পরিবার আর পরিস্থিতির চাপে স্বাধীনতা হয়েছে নত।
এটাই আমার মনে জ্বেলেছে হাজার খানেক প্রশ্নবাণ
স্বাধীন হয়েও কি পেয়েছি আমরা স্বাধীনতার মান।
কান পাতলেই শোনা যায় বধূ নির্যাতন, শিশু শ্রমিকের ক্রন্দন
ভগবান তো পাঠিয়েছে সবার একই রকম হৃৎস্পন্দন।
তাহলে কিসের স্বাধীনতা নিয়ে করছি আমরা গর্ব
স্বাধীন সেদিনই হব যেদিন করো মান হবে না খর্ব।
প্রশ্ন তবু থেকেই যায় আমরা কি সত্যই স্বাধীন?
ব্যতিক্রমটা নিয়ম না, স্বাধীনতা সবার অধিকার – সবার অধীন।