T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় বদরুদ্দোজা শেখু

শীত-কুয়াশার ভোরে

শীতের ভিতরে শীত পীড়িত ভীষণ, ভোর ভোর
রাস্তাগুলো চাপচাপ কুয়াশার ধাঁধাগলি
শহরতলির বাসাগুলো সব শীর্ণ ঘুলঘুলি
মুলিবাঁশের বেড়ার ওপারে বিব্রত বাঁচার খাঁচা
লাউমাচা ময়ূরাক্ষী অস্পষ্ট বিরাণ হুহু
ধূসর উদালিপুর, মায়ালু দৃশ্যের বৃত্তে
ঝিম ধ’রে আসে চিত্তে, তবুও খুড়োর কলে
চলতে হয় পথে নামতে হয় দৈনিক পেশায়,
কারো কারো এইসবে নেশা হয় আনন্দের পর্ব হয়
এমন দৃশ্যকে মনোরম উপভোগ্য মানে তারা
পায়চারী করে কম্বল ওভারকোট চাপিয়ে গতরে ।
রেলগাড়িগুলো আসে দানবের মতো আলো জ্বেলে
ছেড়ে’ যায় কুয়াশা-বন্দর, তারপর কুন্ডলী পাকায়
ষ্টেশনে শ্বাপদকুল জড়োসড়ো ভুলভুলে চোখে,
বিরহের শোকে দুঃখে শূণ্য বুকে বেজে উঠে
উষ্ণতার আলোড়ন, ক্যাঁথা মুড়ে’ ঘুরে ফিরে শুই
কল্পনার প্রমীলাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে মুড়িয়ে
পুড়িয়ে প্রাণের ধূপ অবদমিত সংযম, থমথমে
এখন সময় শুধু কাঠ-কাঠ বোষ্টমীতলির মাঠ
চৌকাঠে রহস্যপুর অপচিত যৌবন-বাসনা,
ডোমকানা মনে চলে স্নায়ুর বেদনা
শহর থেকে শহরে দৌড়ায় আকাঙ্খার শঙ্খচিলগুলো
বন্দর পায়না খুঁজে’ ,উড়ে উড়ে পাখসাটে ঘুরে ঘুরে মরে,
মাথা খুঁড়ে ময়দানে ধর্মতলা-ভিক্টোরিয়ায়
আশেপাশে চলে ছায়ানৃত্য অবোধ কলায়
ইনকা সভ্যতা বুঝি জেগে জেগে জড়োসড়ো তখনো ঘুমায় ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।