মার্গে অনন্য সম্মান বন্দনা পাত্র (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৩৭
বিষয় – নির্জন দুপুর
ঘুম ভাঙল যখন
কাশীনাথ বিড়ির ধোঁয়াতে ঘর ভর্তি করছে।তার স্ত্রী বলল,”বাইরে গিয়ে ধোঁয়া ওড়াও।”
নিস্তব্ধ দুপুর। বাইরের রোদ্দুরের জন্য কাশীনাথের জানালা দিয়ে ধোঁয়া ওড়া বোঝা গেল না।পুকুরের জল শুকিয়ে ডোবা হয়েছে।সেই পুকুর আর নেই। একটা বালিহাঁস খাবার খুঁজে চলেছে।কাশীনাথের জানালা দিয়ে ঐ জলাশয় দেখা যায়।তার স্ত্রী ঘর থেকে বাইরে এল।জনপ্রাণী কোথাও নেই। শুধুই উত্তাপ আর নিস্তব্ধতা ।
একজন ঘোমটা মাথায় জলের ধারে এসেছে বাসন মাজতে।কাশীনাথের স্ত্রী রমা বলল,”এ কি নির্জন দুপুর এখন, তুমি একা বাসন ধুতে এলে ঐ পচা জলে?বাড়ির টিউবঅয়েল ভেঙেছে বুঝি?”
রমা ওখান থেকে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করল।
ঘুম এল চোখে তার। কিছুক্ষণ পর বাইরের দিক থেকেই একটা পোড়া গন্ধ এল তার নাসারন্ধ্রে।উঠে গিয়ে দ্যাখে যেখানে কাশীনাথের বিড়ির শেষের অংশ ফেলার কথা ছিল সেখানে ফেলেনি।বাসন জলে পড়ে রইল। ঘোমটা খুলে গায়ের শাড়ি ফেলে দিল। যেটুকু পোশাক গায়ে আছে,সেটাকে নিয়েই রমাকে জড়িয়ে ধরল।এই দুপুর তাদের দুজনের কাছে সারাজীবন দাগ রেখে দিল।
ঘরের মধ্যেই আবার ফিরে এল রমা।তার গায়ে একটা সুতির শাড়ি জড়িয়ে দিল। তাকে জল খেতে দিয়ে তার সেবা করে সুস্থ করে তুলল।মিনু বলল,”তোমার ঋণ আমি কখনও শোধ করতে পারব না দিদি।”
রমা তখন তার স্বামীর কুকীর্তির কথা শোনাল।
মিনু বলল,”এরকম কেন, দিদি?”
রমার উত্তর, “সবাই সব সুখ পায় না।বিড়ি পছন্দ করি না,তাই কপালে এটাই জুটেছে।”
দুজনেই ঘর ছাড়ল।বেরিয়ে পড়ল দুপুর বেলা।
তারা দুজনেই গ্রামের পথ পার হল। রোদ একটু মাথার উপর থেকে নেমেছে।তাড়াতাড়িই পা চালাল।আর একটু গেলেই স্টেশন।
কাশীনাথের ঘুম ভাঙল এবার। ঘরের মধ্যে, বাইরে কেউ কোথাও নেই। ঘাটের সামনে কিছু বাসন আর একটুকরো পোড়া কাপড়।বিকেল হয়েছে মীনুকে কেউ খুঁজে পাচ্ছে না।রমা লিখে রেখে গেছে একটা চিরকুট “আমরা চললাম।খুঁজবে না আমাদের। ”
কাশীনাথের হাতের চিরকুট মীনুর স্বামীর হাতে দিল।
সে ভীষণ চিৎকার করে উঠল, “ফিরে এসো মিনু,আমি আর কখনও বোতল ছুঁয়েও দেখব না।”
পুকুুর ঘাটের বাসনগুলো মীনুর অপেক্ষায় পড়ে রইল।