২০১০ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি । বর্তমানে কণ্ঠ শিল্পী হিসেবে নিয়োজিত । কবিতা লেখার পাশাপাশি ভৌতিক কাহিনী লেখা এবং পড়ায় বিশেষ আগ্রহী । প্রিয় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
হাড়িয়া কাণ্ড
“অরে ভান্দুয়া, কুই গিলি ? মেদামরা আইচে , উদের এক গেলাস করি হাড়িয়া দে রে-এ-এ-এ …..”
শিক্ষক দিবসের দিন আদিবাসী পাড়ার শিশুদের একটু শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার জন্য সকাল সকাল দল-বল নিয়ে হাজির হলেন NGO এর প্রধান শীলা দত্ত । বেশ কয়েক বছর হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে আসছেন তাঁরা । কখনো শীত বস্ত্র বিতরণ করে আবার কখনো খাদ্য সামগ্রী দান করে । বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যারা সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ।
জেলার কোনায় কোনায় পৌঁছে গেছে । যেখানে যত আদিবাসী পাড়া আছে, প্রত্যেকটি পাড়ায় বিভিন্ন সময়ে গেছে । কখনো কখনো তো তির, বল্লাম নিয়ে তাড়া করেছে আদিবাসীরা । বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে । এখন তো কতো খাতির করে তারা । গাছ তলায় চাটাই বিছিয়ে দেয় বসার জন্য । মুড়ি বাতাসা দেয় খেতে । পাড়ার বৌ বাচ্চারা জড়ো হয় ওদের দেখতে এবং কিছু পাওয়ার আশায় ।
কিন্তু, আজকের মতো আগে কোন দিন হয়নি । দলের সদ্দার করুর টুডু বর্তমানে পাড়ার সবচেয়ে বয়স্ক । সেই কারনে তাকে সদ্দার বানিয়েছে সবাই মিলে । তার পর থেকে পাড়ায় কোন বাইরের লোক মানে ভদ্র গোছের লোক এলে তাদের হাড়িয়া খাইয়ে সম্ভাষণ করার রীতি চালু করেছে ।
কথাটা শুনে NGO এর প্রত্যেকটি সদস্যা একে অপরের মুখের দিকে তাকাতাকি করচে । এমন সময় একটা বিদঘুটে চেহারার কালো কুচকুচে হোমড়া টাইপের একটা মাথায় একটা হাড়ি আর হাতে একটা ঘটি নিয়ে এগিয়ে আসছে । উঠানের এক কোনে আম গাছের নিচে মাচার উপরে বসে বসে হুঁকো টানছে কারুর টুডু । হুঁকোর টান বন্ধ করে বাজখেয়ি গলায় বললো, ” মেদামরা, আপনেরা একানে এসি বচেন । বাচ্চারা এককুনি এসি পরবে । ততক্কনে এক গেলাস করি হাড়িয়া খাই নেন ।”
অনেক জোরাজুরি করে । কিন্তু, অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেলেন তাঁরা । কোন রকমে বাচ্চাদের বই খাতা দিয়ে আর একটা করে বিস্কুটের প্যাকেট দিয়ে পড়ি মরি করে সেখান থেকে পালালো ।