কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে বিচিত্র কুমার (গুচ্ছ কবিতা)

১। অপেক্ষা

চাতকপাখির মতো তোমাকে চাইতে চাইতে;
রঙিন স্বপ্নগুলো অশ্রু জলে ঝরে গেছে:
বুকের গভীর থেকে।
এখন আর দুচোখের পাতায় রৌদ্র ঝিলমিল করে না:
মুক্ত আকাশের নীচে।

তোমার মুখশ্রীও আর আগের মতো মনে পড়ে না;
যেন জৈষ্ঠের কাটফাটা রৌদ্রে হৃদয় পুড়ে:
ময়দার ঝলসানো রুটির মতো ঝলসে গেছে।

তবু এ হৃদয় একটা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়;
একটা বর্ষামুখশ্রী দেখার জন্য,
একটা সত্যিকারের ভালোবাসা দেখার জন্য।

চারদিকে শুধু নদীস্রোতের কলকল ধ্বনি শুনি;
এখানে সেখানে জোরা মানিককেরা সাঁতার কাটে;
আবার হারিয়ে যায় দিনের শেষে।
আমি হয়তোবা এমন কোনো সম্পর্ক চাইনি
এজন্য একটা প্রেমিকাও যোগাতে পাইনি।

চাতকপাখির মতো তোমাকে চাইতে চাইতে;
হৃদয়ে জমানো রঙিন স্বপ্নগুলো অশ্রু জলে ঝরে গেছে:
এ বুকের গভীর থেকে।
তবু এক পলক সেই বৃষ্টির দেখা পাইনি।

২। অপারেশন সার্চলাইট

রাতের অন্ধকারে টিমিস টিমিস জোনাক জ্বলে,
হঠাৎ থেমে গেল ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ;
ওই সুদূর থেকে ভেসে আসে,
শুধু বুটের শব্দ কে ওরা,মেশিনগানের শব্দ?
কেউ একজন বললো মেলেটারি ছড়িয়ে পরেছে দলে দলে
শহর-বন্দরে নগর-রাষ্ট্রে গ্রাম-গঞ্জে?
শুনতে পাচ্ছি,বাংলার উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মুখে মৃত্যুর চিৎকার;
ওরা নির্মম ভাবে ঝাঁপিয়ে পরেছে নিরস্ত্র বাঙালির উপর।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্ন চুরমার করতে হানাদারের দল;
পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির উপর।
তারপরও আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারেননি;
স্বাধীনতার নব সূর্য নিয়ে ফিরেছি ঘর।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।