কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে বিচিত্র কুমার (গুচ্ছ কবিতা)

১। মুখ ঢেকে যায় লজ্জায়
রাত গভীরে যখন আমি অনলাইনে আসি,
টিমিসটিমিস সবুজ বাতি জ্বলে লোক শয্যায়;
অচিনা সব লগ্নছবি ভেসে আসে পাতায় পাতায়
মুখ ঢেকে যায় লজ্জায়।
কি করে বলি কাকে মুখটি আমি কোথায় লুকায়?
কয়েক মিনিট ফ্রী ভিডিও দুষ্টপরী দেখায়;
তারপরে সে মুচকি হেসে বলে চুপিচুপি
এসো তুমি ইনবক্সে একটু সময় কাটায়।
ব্লক মেরে দেই তারিয়ে বিরক্ত যখন লাগে
আবার কেউ নতুন সুরে নতুন প্রেমে ডাকে;
বুঝতে পারি তখন আমি- তাইতো আমি একা
রঙে রঙে কতো রঙিন আজকের পৃথিবীটা।
কেউবা আবার পরীর সাথে পরীর দেশে যায়
টসটসে ফল আপেল বেদেনা চেটেপুঁটে খায়;
খিলখিলিয়ে নেট জগৎ বাস্তবকে হাসায়
মুখ ঢেকে যায় লজ্জায়।
২। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি
আজকাল ভাল্লাগে না মানুষের গতি মতি;
সব জায়গায় ঘুষ দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি।
আমি রৌদ্রের ফুলকি-
গনগনে ডগমগে আকাশে ফুটছি;
ধিরেধিরে অতি তীব্র হয়ে উঠছে আমার রাগ
ঘোড়ার বেগে চারদিকে ছুটছি।
গাছপালা বৃক্ষ শীতল হাওয়া বাতাস
আজ থেকে তোমাদের দিলাম ছুটি;
যতদিন পর্যন্ত পরিবর্তন না হবে:
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।
৩। চন্দ্রমুখী
আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে যখন চন্দ্রলোকে;
তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিলো।
সেদিন এক নিস্পাপ মুখশ্রী দেখেছিলাম চাঁদের আলোতে;
যার মায়াবী দুচোখে রঙিন একটা স্বপ্নের পৃথিবীর স্বপ্নছিলো।
সেই রঙিন স্বপ্নের পৃথিবীতে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম,
সেখান থেকে আর আমি বাস্তব জীবনে ফিরতে পারিনি।
সহস্রকাল পেরিয়ে গেছে তার প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে;
বছরের পর বছর নীল আকাশে ঈদের চাঁদ উঠেছে।
আর আমি দূর থেকে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে তার মুখটি দেখেছি;
চাঁদের আকর্ষণে তার মনেও প্রেমের জোয়ার ভেসে গেছে।
আমি মহাকালের মতই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখে গেছি,
কিছুতেই মনের কথা তার সঙ্গে খুলে বলতে পারিনি।
এই বলতে না পারার যন্ত্রণা বইতে বইতে হঠাৎ যখন;
কোনো এক ঈদের ছুটিতে তার মুখোমুখি হলাম:
ওগো আমার প্রিয় চন্দ্রমুখী।
তখন তার হৃদয় থেকে মিষ্টি একটা প্রেমের গন্ধ পাচ্ছিলাম।
মনে হচ্ছেছিলো স্বর্গসুখের ন্যায় মাতাল করা মিষ্টি একটা আবহাওয়া,
আমি কিছুতেই আর তার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরাতে পারিনি।