T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় বিশ্বজিৎ হালদার

পুরুষ মা
কাশের বনে যখনই খুশির পরশ লাগে,
মেঘের শহর উদাস পরীর মতো, নৃত্য করে-
শারদীয়ার আগমনে উৎসবের আকাশ,
দশদিকে উল্লাসিত হয়;
তখন আমার পান্থ-শালায় বিজয়ার বৃষ্টি নামে!
দলে দলে,ঢাকের তালে ,
কোমর দুলিয়ে ,সবাই তোমাকে নিতে আসে;
আর আমি -ভিখারীর মতো-
দুমুঠো ভাতের জোগাড়ে,
তোমাকে বিক্রি করে দিই!
এ যেন মৃত্যুর মতো অনিবার্য বিদায়!
আমার এক বছরের শিশু মেয়ে,
পরিণত সাজে দূর দেশে চলে যায়-
আমার কুমোরটুলির ছোট্ট উঠানে,
মন খারাপের বর্ষা নামে!
গর্ভে নয়,আমি তোমাকে গড়েছি-
আমার এই শক্ত দুই হাতে;
আমি যেন তোমার পুরুষ মা-
কঠিন কাঠামোয় মাটির প্রলেপে,
আমার অজান্তেই ,তুমি ক্রমশ মৃন্ময়ী হয়ে ওঠো;
কিন্তু তোমাকে আমার কখনও,
দেবী মনে হয়নি!
মনে হয়েছিল,আমার একটা আদুরে মেয়ে;
যে আমার কাছে কাজল পরার বায়না করতো,
কখনও বা কোনের সাজে, সাজতে চাইতো-
স্নেহের অহংকারে-
আমি প্রতিবার,তোমার পুরুষ মা হয়ে উঠতাম।
চোখের সামনে,
একটা নরম প্রজাপতির চেনা মুখ ভাসে –
হয়তো গত জন্মে,আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে;
তোমার দশ হাতে প্রতিবাদী অস্ত্র,
ঠিক যেন রণচন্ডী;
কিন্তু আমার কাছে,তুমি চিরকালীন মহীয়সী;
তোমাকে আমার কখনো,দেবী মনে হয় নি!
মনে হয় শুধু আমার মেয়ে,
মাটি মেখে আমার অক্লান্ত পরিশ্রমে-
যখন ঘুমিয়ে পড়ি,
তুমি আমার উসকো চুলে, হাত বুলিয়ে দাও,
দশ হাতে আগলে রাখো,এই ভিখারীকে!
আমি তোমার পুরুষ মা,
আমার ছোট্ট কুমোরটুলিতে,বছরের পর বছর- তোমাকে লালন করেছি।
পড়ন্ত বৃষ্টি যখন,
আমার ভেজা উঠোন নিকিয়ে দেয়-
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই,
মণ্ডপের আলপনায়,তুমি জোনাকির মতো হাসো-
তখন আমার সব দুঃখ,বিরহ ভুলে-
আবার নতুন কাঠামো গড়তে বসি,
গড়তে বসি আমার মৃন্ময়ী কন্যাকে
প্রহর গুনতে গুনতে
আমি আবার,তোমার পুরুষ মা হয়ে উঠি,
পুরুষ মা।