কাব্যক্রমে বিপ্লব গোস্বামী

১| প্রতিজ্ঞা
পরজনমে লোকে লোকান্তরে
তোমায় আমি করিব আরতি।
শত জনমে শত বার করি
যেখানে হরিব রূপ করিব বন্দনা
প্রিয়া শুধু তোমাকেই স্মরি।
রূপে রূপে অপরূপা খুঁজিব তোমায়
পুষ্প ফোটা শ্রাবণের প্রভাত বেলায়।
কামনার বিপুল আগ্ৰহে তোমিও
খুঁজিবে আমায় লোকে লোকান্তরে।
অতৃপ্তির তৃষা নিয়া গ্ৰহ গ্ৰহান্তরে।
অতৃপ্তির যৌবন তৃষা নিয়া
জন্ম লভিব মোরা বারে বারে,
জন্মান্তরের বিচ্ছেদে তুমি ভুলিও না মোরে।
তবু যদি ভুলে যাও করে মহাভুল
তোমাকে আমায় চিনিয়ে দিবে
চির চেনা সেই মিষ্টি গলার সুর।
২| এসো হে মহাত্মা
এসো এসো হে মহাত্মা
হে অহিংসার পূজারী ।
আজ হিংসার ভারত মাঝে
বড় দরকার তোমারি।
চারিদিকে জাতি হিংসা
অমানবতা হানাহানি ,
এসো হে শান্তির দূত
নিয়ে শান্তির বাণী।
আজ দিকে দিকে হিংসা.
অন্যায়-অধর্ম-অবিচার ,
অহিংসার বাণী নিয়ে
হে মহা মানব তুমি
এসো আরেক বার
৩| বাস্তব সত্য
নিজের দোষ কেউ দেখেনা
পরের দোষে বিচারপতি ;
নিজের স্বার্থ কেউ ছাড়ে না
পরকে বলে কিপ্টে অতি।
নিজের দোষ ঢাকতে সবাই
উকিল হয়ে যুক্তি দেখায়,
পরের দোষের নেইতো ক্ষমা
সাত পুরুষের মন্দ গায়।
নিজের ছেলে শান্তশিষ্ট
নিজের মেয়ে লক্ষ্মীমতী ;
পরের ছেলে বকাটে-বেকার
পরের মেয়ে নষ্টা-অসতী।
পরের জাত-বংশ হীন-নীচ
নিজের জাত-বংশ উত্তম ;
নিজের স্তর-মর্যাদা অতি উঁচু
বাকিরা সব নিকৃষ্ট অধম।
৪| সোনার শিক্ষা
বর্ণ শিখে ছোট্ট সোনা
মায়ের কাছে বসে ;
বাবার কাছে সংখ্যা শিখে
সোনা অঙ্ক কষে ।
আমার কাছে বসে সোনা
শিখে মজার ছড়া ;
বাবার কাছে গিয়ে শিখে
শতকিয়ার পড়া।
মায়ের কাছে জানে সোনা
কোথায় কোন দেশ,
বাবার কাছে শিক্ষা পায়
যত সৎ উপদেশ।
৫| কৃতজ্ঞ
দিয়েছো আমায় উজার করে
তন-মন-ধন সবই,
ছন্দ,উপমা, সবই পেয়েছি
তাই তো আমি কবি।
তোমার যা ছিল দিয়েছ সবই
বিনিময়ে কিছু চাওনি,
আমার যা ছিল চেয়েছি দিতে
কোন দিন কিছু নেওনি।
বিপদে আমায় সঙ্গ দিয়েছ
দিয়েছ সাহস বল,
দুঃসময়ে কাউকে পাইনি পাশে
পেয়েছি তোমায় কেবল।
একবার নয় শতবার তোমায়
ভুল বুঝেছি আমি,
অবজ্ঞা করেছি,অবহেলা করেছি
নীরবে সহেছো তুমি।
বিরহের অলনে পুড়েও কভু
প্রেম ধরেনি ভাটি,
বুঝিয়ে দিয়েছো তুমি সঠিক
সোনার চেয়েও খাঁটি,
সবার চেয়ে আলাদা তুমি
সবার চেয়ে ভালো,
তোমার কৃতিত্বে আমার এসব
তোমার প্রকাশে আলো।