T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় বিপ্লব গোস্বামী

দূর্গাপূজায় মানবতা জাগাতে হবে
শরতের আকাশ জুড়া সাদা মেঘের ভেলা আর রৌদ্র ছায়া জানান দেয় এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব।বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গোৎসব।মা দূর্গার অন্য এক নাম আনন্দময়ী।দুর্গোৎসব হচ্ছে আনন্দের উৎসব।আনন্দময়ীর আগমনে সবাই মেতে উঠে মহানন্দে।আনন্দের জোয়ার মেতে উঠে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা।আনন্দ সাগরে ভাসারই কথা কেননা এই দিনটির জন্যই তো সবাই একটা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকে।তবে আগেদিনের পূজো আর এখনকার পূজোর মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।আগের দিনের পূজোর দিন গুলোতে ঘুম থেকে উঠে মায়ের অঞ্জলির জন্য ফুল তোলা আর পূজা শেষে মায়ের অঞ্জলি দিয়ে প্রসাদ খাওয়ার আনন্দটাই ছিল আলাদা।বিকালে পরিবারের সবার সাথে ঘুরে ঘুরে পূজো দেখা আর ঢাকের তালে তালে ধুনুচি নৃত্য এযেন আগেকার দিনের পূজোর এক বিশেষ রেওয়াজ ছিল।বিজয়া দশমীর দিন মহিলারা মায়ের চরণে সিঁদুর দিয়ে সেই সিঁদুর নিজের সিঁথিতে মেখে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাকে বিদায় জানত।মায়ের প্রতিমা নিরঞ্জন শেষে গুরুজনদের প্রণাম ও সমবয়সীদের সঙ্গে কোলাকুলি করা হত।এক কথায় বলতে গেলে আগেকার পূজো ছিল সাত্ত্বিকতার ।
কিন্তু এখনকার পূজো প্রবেশ করেছে আধুনিকতা।আজ সবাই আধুনিক থেকে উত্তর আধুনিক হতে চলেছে।গ্ৰহণ করছে বিদেশী অপসংস্কৃতি।বিদেশী সংস্কৃতি গ্ৰহণ করা কোন অন্যায় বা অপরাধ নয় কিন্তু কোন অপসংস্কৃতি গ্ৰহণ করা একদম কাম্য নয়।কারণ অপসংস্কৃতি সর্বদা বিনাশকারী হয়ে থাকে।আজকাল তরুণ তরুণীরা উৎসবের নামে শোভাযাত্রাকে অবাদ মেলামেশার উপলক্ষ বানিয়েছে।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উন্মত্ততা ও অশ্লীলতায় মেতে ওঠে তারা।সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের দেশের যুব সমাজ আধুনিকতায় ডিজিটাল হতে চলেছে।আধুনিক ডিজিটাল হতে গিয়ে নিজ সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলী দিয়ে গ্ৰহণ করছে মদ সংস্কৃতি-ডিজে সংস্কৃতি আর বিদেশী অপসংস্কৃতি।
বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গোৎসব বা দূর্গা পূজা।আজকাল দূর্গা পূজাও হতে চলেছে ডিজিটাল।হারিয়ে যাচ্ছে সাত্ত্বিকতা।পূজো মণ্ডপে ধর্মীয় গানের পরিবর্তে চলছে ডিজে গান।আজকাল দূর্গা পূজাতে বা যে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুবক যুবতীরা যেভাবে যে অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য রত হয় কিংবা রাজপথ দিয়ে শোভা যাত্রায় নিয়ে যায় তাতে পাশ্চাত্য আধুনিকতা আমদানিতে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তারা শুধু লজ্জা নত করছে তা নয় অপমানিতও করছে।
আজ হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা। লক্ষ টাকা ব্যয় করে মাঠির দুর্গার পূজো করা হচ্ছে।অথচ গর্ভের দূর্গাকে ভ্রুণেই হত্যা করা হচ্ছে।রাস্তায় এক দূর্গা পেলে ধর্ষণ করা হচ্ছে।বিয়ের দূর্গার কাছে পণ চাওয়া হচ্ছে।বড় বিচিত্র এ জিজিটাল যুগ ! আমাদের ডিজিটাল হতে হবে ঠিকই কিন্তু নিজের সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলী দিয়ে নয়,মানবতাকে জলাঞ্জলী দিয়ে নয়।যত দিন পর্যন্ত আমাদের মনে মানবতা জাগ্ৰত হচ্ছে না ততদিন প্রকৃত অর্থে জিজিটাল হওয়া সম্ভব নয়।প্রকৃত অর্থে আধুনিক ডিজিটাল হতে হলে অপসংস্কৃতি ত্যাগ করে মানবতাকে জাগাতে হবে।