গল্পেরা জোনাকি তে বিপ্লব দত্ত

এ বিরহ আনন্দের
সমুদ্রে আছে ভালোবাসার গান। সমুদ্রে আছে মুক্তির আহ্বান। সমুদ্র কিছু নিতে জানে না। জানে দিতে । তবে আজ কেন এই বিরহজ্বালা যা একদিনের না পাওয়ার।
কি রে সমুদ্র কি ভাবছিস ?
ও কিছু না রে ।
তবে শান্ত কেন ?
না রে দ্যাখ আমার হৃদয়ে আছে অনেক লুকোনো মানুষের গান যে গান কেও শুনতে পায় না। আমার নিজস্ব কোনো রঙ নেই। স্বচ্ছতায় ভরা শরীর আমার। আকাশ নীল হলে আমার শরীর নীল আর কালো হলে এই ভূখণ্ড নিমেষে মৃত দেখায়। আমি নীল থাকতে চাই। উপরে পাখিরা ওড়ে , জেলেরা নৌকো নিয়ে রূপালী মাছ ধরে । আমি জানি মাছেদের কষ্ট হয়। ওরা জীব। মানুষের জীবনধারণের আধার। মানুষ আমার উচ্ছ্বাসে স্নাত হয়। আমি ওদের দুঃখ কষ্ট বুকে নিই। আনন্দে ফেরে বাড়ি । কিন্তু এমন তো কথা ছিলনা যা ক্রমশঃ আমাকে নিস্তেজ করছে । খেপি আজ আসবে না?
আমি উত্তালে এখন।
হারানোর ভয় গ্রাস করছে আমায়।
হে ঈশ্বর কেন দিলে এ যন্ত্রণা ?
আমি চিৎকার করে বলি -খেপি শুনতে পাচ্ছিস ?
আমার যন্ত্রনাশরীর উদ্বেলিত হয়। ফেঁপে ওঠে জলোচ্ছ্বাস। মানুষ, পাখি আমার গর্জনে শুন্যতায় এখন। জনহীন সমদ্রে গাংচিল এসে বলে – সমুদ্র তোমার খেপি তোমার স্পর্শে নতুন সূর্যে। তোমার জয়গানে তার সর্বাঙ্গ।
সমুদ্র শান্ত হলো। কালো মেঘ সরিয়ে নেমে এলো খেপি । আছড়ে পড়লো বুকে।
বললো -সমুদ্র তোমাকে হারাতে চাই না।