সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

রাম একজন রিক্সাওলা

তপন তালুকদার
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ

সরল রাম নির্বোধ রাম
রাম রামু রামেশ্বর বা রমিজুদ্দিন,
ছোটোলোকের নামে কী এসে যায়?
আপনার  যে নামে ইচ্ছা সেই নামেই  ডাকবেন
কুত্তা বলে ডাকলেও,
সে বোধ হয় চুপ করেই থাকবে।।
জু-রোড, চান্দমারি, হাতিগড়
যেখানে বলবে নতশিরে নিয়ে যাবে
চাকা ঘুরলে তবেই জীবন চলবে…
মাটিতে রক্তের ঘাম না পড়া পর্যন্ত যে তার
উনুন জ্বলবে না,
জীবনানন্দের বনলতা
প্রণব কুমার বর্মনের সাগরিকা
টলস্টয় গোর্কি …
পকেটমার বা ভিখারি
বেশ‍্যা, দালাল অথবা পূজারী…
কাকে যে সে নেয়নি!
তার রিক্সায়  উঠে সবাই  গেল এগিয়ে
অথচ সেই যেতে থাকল
পিছিয়ে পিছিয়ে…
পথগুলিতে তার বড়ো বড়ো গর্ত
পথগুলি আঁকাবাঁকা
হোঁচট খেতে খেতে ঘুরতে থাকল
বয়স্ক রিক্সার খামখেয়ালি চাকা…
গায়ের জোরে  চালিয়ে
জ্বরাক্রান্ত দেহে চালিয়ে…
না হলে ছেলের কলেজের ফীস, মেয়ের বিয়ের খরচ
কে দেবে ভাই?
সময় গড়িয়ে  যায়, রিক্সা ক্লান্ত হয়
মেয়ের নতুন সংসার হয়
ছেলের নতুন চাকরি
সহস্র মাইল দূরে নতুন ঠিকানা ছেলের…
সেখানে নাকি যেতে পারে না বুড়ো হল তার রিক্সা।
রাম কিন্তু মহা রামভক্ত
মর্যাদা পুরুষোত্তম…
বিছানায় পড়ে পড়ে তার ভাঙ্গা রিক্সার দিকে তাকাতে তাকাতে
সে এখন ও ভাবে যে
রাম ‘ আচ্ছে দিন’ আনবে তার জীবনে
একদিন সেও অন্যের রিক্সায়
পেসেঞ্জার হয়ে বসে যাবে
ছেলের নতুন ঠিকানায়…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।