সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

গান্ধারী হতে পারলাম না
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
নীলিমা ঠাকুরিয়া হক
না চাইতেই এনে দিয়েছিলে সোনার হরিণ
বিনিময়ে বিনম্র অনুরোধ,
‘তুমি চোখ বুজে থাক প্রিয়তমা
এই সমস্ত তোমারই’
সরল হরিণার চোখে সূর্য ডোবা ঘাট
হিঙ্গুল আভা মিনা করা বনানী বিরহে কাতর কিছুই দেখনি তুমি
আকাশের দিকে না তাকিয়ে থাকতে পারলে না এত গভীর নীল ,বিচিত্র বিশাল হাতছানি
শ্রাবণী শৃঙ্গার, ঘনঘোর বাদল
বৃষ্টির তালে তালে উত্তাল মাতাল
ভেজা মাটির গন্ধ শুঁকে শুঁকে
গন্ধ শুঁকে শুঁকে উড়ে আসা লাল ফড়িঙটার মতো-
আমি হয়তো এভাবেই এসেছিলাম তোমার কাছে
ভেবেছিলাম, পৃথিবী মধুশালা
চোখের পেয়ালায় জীবন উভৈনদী
আমার পায়ের খোজে ঘাসগুলি ডানা মেলে
উড়ে যায় নাকি
চোখের মণির সরল পথ দিয়ে পথ হাঁটার জন্য ব্যাকুল তুমি
কীভাবে বদলালে পথ
আমার চোখ এখনও বিদ্যুৎ হেনে তোমাক খোঁজে
তোমাকে লেখা গোলাপি চিঠিগুলি
বাক্সের নিচ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আগেই
অপ্রেমের পরিপূর্ণ তোমের সিন্দুকে
প্রেমের তো কোনো ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নেই
নিরুপায় আমি
আমার শোবার ঘরের মতো কলজের রুমে আমার
শীত-তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই
এটা কেমন অস্থির বিষাদ বুঝবে না তুমি
তুমি থাকবে,তুমি থাকবে না
মোটকথা অন্ধকার আমার সঙ্গ নেবে
তোমার ও অভিযোগ আছে ,আছে বিষাদ
হৃদয়ে খোদিত অহংকারী স্থাপত্য বিশেষ
জানি তলে তলে ভীষণ পাড় ভাঙ্গা
তথাপি তো পুরোনো প্রেমের শপথ
দেখতো, আমার জন্য কে অপেক্ষা করে থাকে সবুজ পথটির ওপ্রান্তে
গ্রন্থকার এবং ল্যাবরেটরী পর্যন্ত এত ঈর্ষা তোমার
যার জন্য আমি চোখ বন্ধ করতে পারিনা
প্রতিটি পৃষ্ঠা সুরঙ্গ দরজা চিৎকার করে অণুবীক্ষণের তিরবির চোখে আঁকে বিষ্ময় -কল্যাণ
জিহ্বা সেলাই করে রাখতে পারে
চোখ জোড়া কীভাবে খসিয়ে রাখব
দোষ আমার একটাই, চোখে রঞ্জন রশ্মি
অনায়াস যাতায়াত হাড় মজ্জার গোপন গঠন দিয়ে
আত্মা অমানিশায় রেখে পরতে পারলাম না জ্যোৎস্নার মুখোশ
ক্ষমা করবেন, গান্ধারী হতে পারলাম না আমি
আর তুমি তালাক-নামা হাতে তুলে দিলে।