সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

মৃত্যুর কয়েকদিন পরে মানুষ নক্ষত্র
অনুভব তুলসী
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
মৃত্যুর কয়েক দিন পরে মানুষ নক্ষত্র হয়
আমি জানি না যদিও সেদিন শয্যাগত
বাবা দুই হাতে টানা হেঁচড়া করে নিজের চুল
ছিঁড়ে ফেলতে নিজের চোখে দেখেছিলাম।
রক্তমাখা কাপড় খুলে বাবা উলঙ্গ হলেন
চামড়ার নিচে চন্দনের ছন্দময় শরীরটার দিকে
আমি যে বিস্মিত হয়ে তাকিয়েছিলাম।
মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমি বললাম
‘ তোমার দেবত্বের অর্ধেক আমাকে দাও,বাবা।’
মমতা নামের পার্থিব প্রিয় নদীর কলতান
সেদিন বাবার কানে পড়ল না, কেননা’
আঙ্গুলের অভিনব মুদ্রায় মগ্ন হয়ে
বাবা তখন ছিঁড়ছিল দেবোৎপল।
তখনই বাবার নাম লেখা আশি বছরের একটি নৌকা
বৈঠার সঙ্গে নিয়তি বালিতে পুঁতে ফেলল।
মায়েরা ইতিমধ্যে কান্নাকাটি শুরু করল–
আস্ফালনে অমাবস্যার আকাশ ভেঙ্গে পড়বে যেন।
মৃত্যুর কয়েক দিন পরে মানুষ নক্ষত্র হয়
আমি জানি না যদিও সেদিন সদ্যমৃত
বাবার দুই চোখের জ্বলন্ত চিতাকাঠ উজ্জল
সেই হাসিটাতেই আমরা হলাম উদ্ভাসিত
অভাবের গান