সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

ভগবান এবং একজন নারী
করবী ডেকা হাজরিকা
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
একদিন মাঝরাতে
প্রচণ্ড তুফান আর বৃষ্টি হয়েছিল
সেই সময় আমার ভগবান
নিরাশ্রয় হয়ে উঠোনে ভিজছিল,
তিনি ভয় পেয়েছিলেন
কারণ রাতটা ছিল অন্ধকার,
কিছু অপরিচিত পদক্ষেপও ধীরে ধীরে
এগিয়ে আসছিল ।
আমি তাকে মন্দিরে নিয়ে গেলাম।
কিন্তু সেখানে কোলাহল ছিল
মসজিদে নিয়ে গেলাম
সেখানে ঠাণ্ডা ছিল
কোথাও পেলাম না
মনের মতো আশ্রয়।
ভগবানকে সঙ্গে নিয়ে রাতটা ঘুরে বেড়ালাম
সাধু সন্তের ডেরায়,
ঘুরে বেড়ালাম ভগবানের ঘর বলে পরিচিত সমস্ত
পবিত্র ধামে।
তারমধ্যে কয়েকটিতে অবশ্য প্রবেশ করিনি।
কারণ আমি নারী
সমস্ত পুণ্য মন্দিরে
প্রবেশ অধিকার আমার নিজেরই নেই।
ভগবান বললেন –ঘুরে ঘুরে ক্লাস্ত লাগছে
আর কোথাও যাব না
আমাকে মানুষের মধ্যেই জায়গা করে দাও ।
হে ভগবান। কোথায় রাখব তোমাকে?
নিজের আশ্রয় নিয়ে নিজেই বিব্রত
আমি কেবল একজন সাধারণ নারী।
রাখ তোমার অন্য কোনো পরিচিতের সঙ্গে–
বৃষ্টিতে কাঁপতে থাকা ভগবান বললেন।
অনেক ভাবলাম।
একজন নারী হয়ে কোন জায়গায় আমি দিতে পারি
চরম আশ্রয়
পিতা-মাতার কাছে?
না,তাদের আঙ্গুলের ঈশারায়
হারিয়েছি নিজের নিজস্ব পরিচয়,
তাহলে আমার স্বামী?
না, তিনি নিজেই একজন
সমাজ বানিয়ে দেওয়া ভগবান
সেখানে আমি নিজেই আশ্রিত।
এই ঝড় বৃষ্টির রাতে এই অসহায় ভগবানের জন্য
জায়গা কোথায় ?
তখনই আমার ছোট্ট শিশুটি ঘুমের মধ্যে ডেকে উঠল
মা তুমি কোথায়?
তুমি না থাকলে ভয় লাগে মা।
সঙ্গে সঙ্গে আমি
বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাটুকু
খুঁজে পেলাম।
আমার সন্তানের বালিশের কাছে
ভগবানকে শুইয়ে দিলাম
এখন আমি সারা জীবন
তাকে ঘিরে থাকব
সমস্ত অশুভ থেকে বাঁচিয়ে রাখব।
মাতৃ্ত্বের চেয়ে সতর্ক রক্ষক
ভগবানেরও কি আছে।