সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

রাতের ছায়ামূর্তি
রুদ্র সিংহ মটক
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
সোনালি রাতের মায়ায়
চঞ্চল হইনি কখনও
দীর্ঘদিন পরে কারামুক্ত কোনো দুর্বল, বিরহ- কাতর
কয়েদির মতো
পাকা ধানের শিশিরে আঁকিনি যুবতি চাঁদের ঠোঁট জ্যোৎস্নারকোষ
শিশির সুগন্ধি শারদীয়া বাতাসে সিক্ত করেনি আমার নিঃশ্বাসের নিশিগন্ধা
মাঝরাতের শহরে ঘুরে বেড়াতে বিমর্ষ ভাবে
হঠাৎ কবরের পাশে শিলের বুকে ভিড় করে জ্বলে উঠতে দেখলাম
মাণিক–আলোর একটি উজ্জ্বল ছায়া মূর্তি
ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,–
তুমি কে রহস্যময়ী, মর্ত্যের মানবী না স্বর্গের দেবী?
অদৃশ্য হওয়ার আগে আলোর সেই দুর্লভ পরী
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে গেল,–
আমি নারী তোমার সাত জন্মের প্রেয়সী
তুমি আমার প্রিয় পুরুষ জন্ম- জন্মান্তরের
তোমার দর্শনের জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম নির্জন রাতের
এই কবরের আড়ালে।