সাহিত্য ভাষান্তরে বাসুদেব দাস

উলঙ্গ সময়ের সঙ্গে
নন্দ সিং বরকলা
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ
কেন এরকম দিনের সঙ্গে মুখোমুখি হই
যে সমস্ত দিনে ভেঙে চুরমার হয় পৃথিবীর স্বপ্ন,
ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান ভেঙ্গে পড়ে,
তাজমহলের ভেতরের মখমল যেন ছিনিয়ে নেয়,
গভীর সবুজ গুলি ছিনিয়ে নেয়
ক্রমশ আমি মানুষটা উলঙ্গ হয়ে পড়ি
কাঁপে দুচোখ, বুক,দুই পা… … …
কে জানি কখন মাপে আমার রক্তের উষ্ণতা!
কীভাবে জিজ্ঞেস করি নিজেকে কেমন আছে তোমার দিন?
ভালো আছি বলে কাকে বলি, কীভাবে বলি?
দুচোখ বুকের ভেতর দিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে প্রবেশ করতে পারি কি?
কীভাবে ডাকি দুচোখে কেবল যে শূন্যতা এবং আতঙ্ক!!
এই ভয়ানক দিনগুলির ওপারে কী আছে?
এরকম দিনের সঙ্গে কেন মুখোমুখি হয় নদী
যা কেবল মৃতদেহ বহন করে চলেছে!
ক্ষুধার খবর কে রাখে- যে খবর না পেলেও
স্বপ্ন দেখি বৃষ্টির
সবুজ হবে পৃথিবী আকাশ ভরে উড়বে পাখি
রামধেনু উঠবে, শিশুরা হাত ধরে গাইবে রঙের গান
কিন্তু কার ও সঙ্গে কথা বলতে পারি না
শুনতে পারিনা বুকের গান
নিঃসঙ্গ শেফালিগাছ একটা
কাঁপে চাঁদের আলোতে
দূরে জলীয় সোনার বুকে অশান্ত পৃথিবী
পৃথিবীর বাড়ে অসুখ
ভাঙ্গে বৃহৎ বৃহৎ অট্টালিকা এবং
রান্নাঘরে ঠাকুরমার কোলে শুনি রণোন্মাদ
ঘোড়ার পদক্ষেপে এই দিনগুলির কথা… … …
যে সমস্ত দিনে ভেঙ্গে চুরমার হয় পাহাড়-পর্বত,
অঙ্কিয়া ভাওনা, পাঠশালার অ-আ-ক-খ… … …